মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়াচ্ছে। এদিক থেকে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র। ওশেনিয়ার দেশটি বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার স্থিতিশীল অবস্থায় রেখেছে। বিবৃতিতে ব্যাংকটি জানায়, অতীতে সুদহার বাড়ানোর ফলে যে প্রভাব পড়েছে, তা পর্যালোচনা করতে আরো সময় লাগবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এ হার আরো বাড়ানোর বার্তাও দিয়েছে। খবর রয়টার্স।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে আগ্রাসী কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া। ২০২২ সালের মে মাস থেকে ৪০০ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদহার বাড়িয়েছে, যা ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তখন বাজার কার্যক্রম থমকে যাওয়ার দিকে ঝুঁকছিল। তবে অর্থনীতিবিদরা বাজার অবস্থা নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত ছিলেন। রয়টার্স পরিচালিত জরিপে অংশ নেয়া ৩১ জনের মধ্যে ১৬ জন সুদহার বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিলেন। 

বাকিরা ব্যাংকটির স্থিতিশীলতার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ান ডলার দশমিক ৪ শতাংশ কমে দশমিক ৬৬৪৭ ডলারে নেমে আসে। তবে সব ক্ষতি কাটিয়ে দশমিক ৬৬৮২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। কারণ ব্যবসায়ীরা তখন আরো এক দফা মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছিলেন। রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গির অনিশ্চয়তার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ফিলিপ লো আগের সতর্ক বার্তাই পুনরাবৃত্তি করেছেন। তার মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি আরো কঠোর করতে হবে। কেননা সহসাই এ সমস্যার সমাধান হবে না।

অর্থনীতি এখন নাজুক অবস্থায়। রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া বিষয়টি বুঝতে পেরেছে বলেই সুদহার স্থিতিশীল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া প্রথমে এপ্রিলে সুদহার বৃদ্ধি স্থগিত করলেও মে ও জুনে পুনরায় বাড়াতে শুরু করে। সার্বিক প্রতিবেদনে গত এক মাসের অর্থনৈতিক তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে অনেক অর্থনীতিবিদ চলতি বছর মন্দার আশঙ্কা করেছিলেন।

আবাসন খাতে ধারাবাহিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি, হাউজিং ফাইন্যান্সের উন্নতি ও বিল্ডিং অনুমোদনের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন এমন ইঙ্গিত দেয় যে আর্থিক পরিস্থিতি যতটা কঠোর হওয়ার কথা, ততট হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, জুলাইয়ের শেষ দিকে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রকাশের পরে অনেক অর্থনীতিবিদ আগস্টে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ভালো সম্ভাবনা দেখছেন। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মার্সেল থিলিয়ান্ট বলেন, ‘‌শ্রমবাজার এখনো খুব কঠোর, ঘরবাড়ির দাম জোরালোভাবে পুনরুদ্ধার চেষ্টা চলছে ও ইউনিটপ্রতি শ্রমব্যয় বাড়ার সঙ্গে আগস্টে আরো ২৫ বিপি সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, ব্যাংক সেপ্টেম্বরে আরো একটি সুদহার ঠিক করবে।’