অ্যাসফল্ট ইন্ডাস্ট্রি অ্যালায়েন্সের (এআইএ) বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব রাস্তা মেরামতের বকেয়া খরচের পরিমাণ রেকর্ড ১৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৮৬০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে। গত বছর স্থানীয় কাউন্সিলগুলো প্রায় ১৯ লাখ খানাখন্দ মেরামত করলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মাত্র অর্ধেক সড়ক ভালো অবস্থায় রয়েছে, বাকি অংশে অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়ে গেছে। অত্যন্ত আর্দ্র শীতকাল ও দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত অর্থায়নের কারণে রাস্তার অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়েছে।

এআইয়ের চেয়ারম্যান ডেভিড জাইলস জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভঙ্গুর হয়ে পড়া সড়ক যোগাযোগের সংকট এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৫ সাল থেকে সব গর্ত মেরামতের আনুমানিক ব্যয় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড বেড়েছে। যদিও গত বছর সরকার অতিরিক্ত ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডসহ মোট ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড সড়ক মেরামতে বরাদ্দ দেয়, তবু পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয়।

সড়কের এ দুর্দশা নিয়ে এএ নামক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট এডমন্ড কিং বলেন, ‘অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও নিম্নমানের সড়কের কারণে স্থানীয় রাস্তাগুলো এখন ভাঙাচোরা পথে পরিণত হয়েছে।’

আরএসির নীতিনির্ধারক প্রধান সাইমন উইলিয়ামস জানান, প্রতিদিন শত শত গাড়ি গর্তের কারণে বিকল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আইএএম রোডস্মার্টের পরিচালক নিকোলাস লয়েস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি ছয়টি স্থানীয় রাস্তার মধ্যে একটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর টিকতে পারে। তিনি ‘তড়িঘড়ি করে জোড়াতালি’ দেয়া মেরামতের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেন।

কুইকফিটের এক জরিপ অনুযায়ী, গত ১২ মাসে গর্তের কারণে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের চালকদের রেকর্ড ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হয়েছে।

সাধারণত শীতকালে বৃষ্টির পানি রাস্তার ফাটলে ঢুকে পড়ে এবং পরে তা জমে বরফ হওয়ার সময় প্রসারিত হয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি করে।