প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চীন। নির্দিষ্ট পরিশোধকদের কাছে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেইজিং। চীনের ন্যাশনাল ফুড অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ ঘোষণা দিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, নিলামের মাধ্যমে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আসবে।
পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় কার্যকরী নিশ্চয়তা দেবে।
নিয়মিতভাবে মজুদ উন্মুক্ত করা এবং পুনরায় মজুদ পরিপূর্ণ করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছে মজুদ প্রশাসন।
গত বছর করোনা মহামারীর প্রভাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় ভাটা পড়ে।
তবে এ বছর চাহিদায় গতির সঞ্চার হয়েছে।
ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে বাড়ছে দাম।
চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্টের দাম ২ শতাংশ কমলেও শুক্রবার ঊর্ধ্বমুখিতায় বাজার শেষ হয়।
এদিকে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
মূলত ঊর্ধ্বমুখী বাজারে লাগাম টেনে ধরতেই নিলামের এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।
তবে নিলামে সম্ভাব্য কী পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রস্তাব করা হবে তা জানায়নি মজুদ প্রশাসন।
এছাড়া সংস্থাটির বিবৃতিতে নিলামের তারিখও উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা জানান, মজুদ প্রশাসনের বিবৃতিতে নিলামের সময় ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ উল্লেখ না করায় বাজারসংশ্লিষ্টদের মাঝে দ্বিধার সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় নিলাম এরই মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাকি ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মজুদ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম সাড়া পায়নি বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অন্যদিকে জুলাই ও আগস্টেও সরকারি মজুদ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রির গুঞ্জন উঠেছিল।
তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
যদিও গোল্ডম্যান স্যাকসের এক বিশ্লেষক জানান, গত আগস্টে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওই নিলামে ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়।
এ কারণে চলতি গ্রীষ্মে চীনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় কিছুটা কমে যায়।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে চীনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে আগস্টে আমদানির পরিমাণ জুলাইয়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়েছে।










