সম্প্রতি একাধিক জরিপে বিনিয়োগ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে আরব আমিরাতের (ইউএই) নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির প্রধান নুনো মাতোস। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের নির্ভরযোগ্য ওয়েলথ হাবে পরিণত হয়েছে ইউএই।’ খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
নুনো মাতোস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারের একটিতে পরিণত হয়েছে ইউএই, যা দেশটিকে অগ্রগণ্য বাজার হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশটির প্রাসঙ্গিকতা ক্রমাগত বাড়ছে।’
বিষয়টি আরো বিস্তৃত পরিসরে ব্যাখ্যা0করেন মতোস। তিনি জানান, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) নজরদারি তালিকা থেকে মুক্ত হওয়ার পর সম্প্রতি ইউএইর প্রতি বৈশ্বিক আকর্ষণ শক্তিশালী হয়েছে। কর্মপরিকল্পনার ১৫টি সুপারিশ সম্পন্ন করার পর এফএটিএফের আর্থিক অপরাধের নজরদারি তালিকা থেকে দেশটির নাম সরিয়ে নেয়া হয়।
এফএটিএফের সুপারিশ মেনে পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগকে ‘ইতিবাচক’ অভিহিত করে নুতো মাতোস বলেন, ‘এমন পদক্ষেপ দেশটিতে সম্পদের প্রবাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। নতুন বিনিয়োগ প্রবাহ ইউএইর অবস্থানকে সামনে এগিয়ে নেবেন।’
আর্থিক বিশ্লেষক সংস্থা বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের (বিসিজি) গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৩ অনুসারে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বুকিং কেন্দ্র হিসেবে ইউএইর অবস্থান সপ্তম।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যাসেটস আন্ডার ম্যানেজমেন্ট (এইউএম) অন্য যেকোনো বুকিং সেন্টারের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিক, আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপ থেকে এসেছে বিনিয়োগ। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য উদ্যোক্তাকে আকর্ষণ করেছে ইউএই।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইউএইর সাফল্যের পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। সবার আগে আসে ব্যবসার ক্ষেত্রে সহজ নীতিমালা। দেশটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সহজ নীতিমালার আওতায় ব্যবসার সুযোগ দিচ্ছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শিথিল নীতিমালা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।










