নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাবে গত বছর হীরার বৈশ্বিক উত্তোলন খাতে স্থবিরতা নেমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ এ সংকট আরো উসকে দেয়।
তবে চলতি বছর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে উত্তোলন।
বছর শেষে অমসৃণ হীরার বৈশ্বিক উত্তোলন ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২০ সালে মহামারী দেখা দেয়ার পর নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয় হীরা উত্তোলনে।
ওই বছর উত্তোলন ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১১ কোটি ১৪ লাখ ক্যারেটে নেমে আসে।
তবে চলতি বছর বৈশ্বিক উত্তোলন ওই বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার ক্যারেটে উন্নীত হতে পারে।
প্রধান দেশগুলোর মধ্যে বতসোয়ানা, কানাডা ও অ্যাঙ্গোলায় লক্ষ্যণীয় মাত্রায় পুনরুদ্ধার ঘটবে বলে জানায় গ্লোবাল ডাটা।
গ্লোবাল ডাটার সহযোগী প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিনিথ বাজাজ বলেন, বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়লেও সেটির মাত্রা হবে স্বল্প।
এর পেছনে তিনি গত বছরের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার আরগেইল খনি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেন।
পাশাপাশি রাশিয়ার উত্তোলন প্রবৃদ্ধির হারও থাকবে মাঝামাঝি।
তবে এ বছরও বৈশ্বিক উত্তোলনে দেশটির আধিপত্য বজায় থাকবে।
গ্লোবাল ডাটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হীরা উত্তোলনে
যৌগিক বার্ষিক (সিএজিআর) প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ২ দশমিক ৫ শতাংশে।
২০২৫ সালে বৈশ্বিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ কোটি ৪৮ লাখ ক্যারেটে।
গ্লোবাল ডাটা বলছে, গত বছর কভিড-১৯ মহামারী হীরার বৈশ্বিক বাজারে ভয়াবহ আঘাত হানে।
এতে করে খনিতে উত্তোলন কার্যক্রম এবং সীমান্ত পারাপার বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ে।
মহামারী ছাড়াও বাজারকে আরো নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ।
বাণিজ্যিক হীরার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হংকংয়ের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাজাজ বলেন, গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে খুব খারাপভাবে বিপর্যস্ত হয় চীনের হীরার বাজার।
তবে দেশটি মহামারী মোকাবেলায় সফল হওয়ায় দ্রুতই মূল্যবান ধাতুটির বাজার পুনরুদ্ধার হয়।
হীরার বৈশ্বিক চাহিদায় ভারসাম্য আনতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে চীন।
ধারাবাহিকভাবে করোনাজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকায় বাজার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।
চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক সরবরাহ ধারাকে গতিশীল করে তোলে।
গত বছরের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মতো প্রধান হীরা ব্যবহারকারী দেশগুলোতে চাহিদা বাড়তে থাকে।
গ্লোবাল ডাটার প্রতিবেদনে বলা হয়, বতসোয়ানা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ হীরা উত্তোলক দেশ।
করোনা মহামারীর শুরুতে দেশটির উত্তোলন খাত পঙ্গু হয়ে পড়ে।
ওই বছর দেশটির হীরা উত্তোলন ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ কোটি ৬৯ লাখ ক্যারেটে নেমে আসে।
তবে চলতি বছর খনিগুলোতে নতুন উদ্যমে উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
চাহিদার উল্লম্ফন উত্তোলন খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ বছর বতসোয়ানার হীরা উত্তোলন ৩৭ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৩২ লাখ ক্যারেটে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া কানাডায় উত্তোলন ১৬ দশমিক ৬ ও অ্যাঙ্গোলায় ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে।










