চাহিদা কমে যাওয়ায় সংকুচিত হয়েছে এশিয়ার শিল্প উৎপাদন। রফতানি সূচকে পতন ঘটেছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোয় বাণিজ্যিক পুনরুদ্ধার গতি চলতি বছরের জুনে ছিল তুলনামূলক কম। সার্বিকভাবে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে আরো ঘনীভূত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই। খবর রয়টার্স।
কভিড-১৯সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে দেয়ার পর চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিয়ে আশাবাদী ছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চীনের পুনরুদ্ধার গতি ছিল প্রত্যাশাসূচক থেকে নিচে। একই সময়ে ইউরোপ ও আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ার ঘটনা প্রভাবিত করেছে উৎপাদনকারীদের। দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তরু নিশিহামা জানিয়েছেন, খুব সম্ভবত এশিয়ার বাজারে সবচেয়ে দুঃসময় পেছনে ফেলে এসেছে। কিন্তু কার্যক্রম এখনো প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না। চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগগুলো দিনকে দিন ঝিমিয়ে পড়ছে। চীন এখনো সেভাবে শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। তার ওপর রয়েছে মার্কিন অর্থনীতিতে বিদ্যমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদহারের দেয়াল। সব মিলিয়ে এশিয়ার উৎপাদনকারীরা উদ্বেগের মৌসুম পার করছেন।
চীনের কাইশিন বা এস অ্যান্ড পি গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) মে মাসে ৫০ দশমিক ৯ এ ছিল। জুনে সূচক ৫০ দশমিক ৫ এ নেমে আনে। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকলে কারখানার কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নিচে থাকলে সংকোচন বোঝায়। নতুন কার্যাদেশ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, সরবরাহের সময় ও স্টক লেনদেন পর্যালোচনার মাধ্যমে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত সূচকে দেখা যায়, চীনের অর্থনীতি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে প্রত্যাশিত গতি হারিয়েছে।
জাপানে এইউ জিবুন ব্যাংক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) গত জুনে হ্রাস পেয়ে ৪৯ দশমিক ৮-এ পৌঁছেছে। টানা সাত মাস পর গত মেতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ হলেও জুনে এসে আবার সংকুচিত হয়েছে। বিদেশে চাহিদা কমে যাওয়াই দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকোচনের প্রধান কারণ। গত জুনে বিশেষ করে চীনে কমেছে চাহিদা। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পিএমআই সূচক জুনে নিম্নমুখী হয়ে ৪৭ দশমিক ৮-এ ঠেকেছে। মে মাসে সূচক ছিল ৪৮ দশমিক ৪-তে। দেশটিতে টানা ১২ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে সূচক। এশিয়া ও ইউরোপজুড়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় কমেছে গতি।
এশিয়ার অন্য দেশের মধ্যে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায়ও কমেছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও রফতানি কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে আসার কারণে প্রভাবিত হয়েছে উৎপাদন ও সরবরাহ। তবে ভারতীয় অর্থনীতিতে সামান্য আলো দেখা যাচ্ছে। চাহিদা বাড়ার কারণে গত জুনে অল্প পরিসরে হলেও বেড়েছে কার্যক্রম। যদিও গত মে মাসের তুলনায় কার্যক্রম মন্থরই ছিল। ব্যাংক অব জাপানের তানকান জরিপে দেখা যাচ্ছে, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়া ও ভোক্তাব্যয় বাড়ায় ব্যবসায়ীরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা অগ্রগতি করেছে।
এশিয়ার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে চীনের অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল। প্রথম প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে গতি ছিল প্রত্যাশার চেয়ে কম। এশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাকি পৃথিবীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার সাম্প্রতিক দিনগুলোয় গৃহীত মুদ্রানীতির কারণে অর্থনীতি প্রভাবিত হবে।
মে মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছিল, এশিয়ার অর্থনীতি চলতি বছরে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এশিয়ার এ প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ৭০ শতাংশকে নির্দেশ করে। তবে ২০২৪ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড় করানো হয়েছে। সঙ্গে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার।










