চলতি বছরের প্রথম চার মাসের হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সপ্তম শীর্ষ আমদানি উৎস দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথমবারের মতো জাপান ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলেছে দেশটি। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (কেআইটিএ)। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলোর আমদানি চলতি বছরের জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে সার্বিকভাবে ব্লকটির আমদানির পতন ঘটেছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। কোরিয়া থেকে আমদানি হওয়া পণ্যের মূল্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি ডলার, যা সার্বিকভাবে তালিকায় সপ্তম। কোরিয়ার আগে থাকা ইউরোপীয় দেশগুলো হলো যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও নরওয়ে। অন্যদিকে অ-ইউরোপীয় দেশ হিসেবে কেবল সামনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

ইইউর আমদানি গন্তব্য হিসেবে রাশিয়া ও জাপানের চেয়ে এগিয়ে কোরিয়া। বছরের প্রথম চার মাসে জাপান থেকে আমদানি ছিল ২ হাজার ৬২০ কোটি ডলার এবং রাশিয়া থেকে ২ হাজার ১১০ কোটি ডলার। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইইউতে কোরিয়ার রফতানি জানুয়ারি-জুলাইয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এক বছর আগের তুলনায় সার্বিকভাবে রফতানি কমেছে ১৩ শতাংশ।

প্রথম ছয় মাসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ব্যাটারি উপাদান বেশি আমদানি করেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। ক্যাথোড উপাদানের আমদানি বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। একই সময়ে গ্রাফাইট ও ইলেকট্রোলাইটের আমদানি বেড়েছে ১৯০ শতাংশ। ইইউ বর্তমানে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রচেষ্টা করছে ব্যাটারি উৎপাদনের পরিবেশ তৈরির জন্য। ফলে কোরিয়ার ইউরোপে বিভিন্ন পার্টস রফতানি কমেছে। তবে পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে ব্যাটারি উপাদানের রফতানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কোরিয়ার প্রধান তিন ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলজি এনার্জি সলিউশন, স্যামসাং এসডিআই ও এসকে ইনোভেশন। পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরিতে তারা ব্যাটারি কারখানা পরিচালনা করে। কেআইটিএ দাবি করেছে, ইইউ এখনো ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ব্যাটারি উপাদানের ওপর। বিশেষ করে আগামী দিনগুলোয় ক্যাথোড উপাদান, অ্যানোড উপাদান ও ইলেকট্রোলাইটস আমদানি চালিয়ে যেতে থাকবে।

ইউরোপে দক্ষিণ কোরিয়ার গাড়ি রফতানি জানুয়ারি-জুলাইয়ে বেড়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে রফতানি বেড়েছে যথাক্রমে ১৪৩ দশমিক ৮ ও ১২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে জার্মানি, চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় অটোর যন্ত্রাংশ রফতানি বেড়েছে। কোরিয়ার প্রধান অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হুন্দাই মোটর এবং কিয়া কারখানা পরিচালনা করে চেক ও স্লোভাকিয়ায়। ইইউতে কোরিয়া থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস উপাদান রফতানিও বেড়েছে। হাঙ্গেরি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি আছে আমদানিকারকের তালিকায়।

কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ইইউ জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত গাড়ি বিক্রি সীমিত করে দেবে। ফলে বৈদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারির উপাদানের প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। কেআইটিএর গবেষক কিম না ইয়ুল বলেছেন, ‘‌উৎপাদন পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে বাজারে আধিপত্য করতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মাথায় রাখা উচিত ইইউর নতুন বাণিজ্যনীতি সম্পর্কে।’