কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতিবাচক সুদহারের ফলে অর্থনৈতিক অভিঘাতের কবলে পড়েছে জাপানের মধ্যবিত্তরা। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার নীতির নেতিবাচক প্রভাবের পর কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির বড় বড় প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি জাপানের বাণিজ্যিক ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব তোলা হয়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মজুরি বৃদ্ধিকে জাপানের অর্থনীতিবিদরা ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) টেকসই মজুরি বৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখেন। এছাড়া এর মাধ্যমে দেশটির ২০১৬ সালের সুদহারের নেতিবাচক প্রভাবও লোপ পাবে বলে মনে করেন তারা।

১৮ ও ১৯ মার্চ বিওজের নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জাপানের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে ব্যাংকটি। জাপানকে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর কাতারে আনতে বেশ কয়েক বছর ধরে আর্থিক অভিঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এশিয়ার দেশটি। 

জাপানের বৃহৎ ট্রেড ইউনিয়নগুলোর জোট রেঙ্গোর তথ্যমতে, এ বছর প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগামী ৩০ বছরে ৫ শতাংশ মজুরি বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে চলতি বছরে ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির আশা করছেন তারা। গত ৩১ বছরে সর্বোচ্চ বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশ বা তার কম।

নতুন এ দাবিতে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসহ প্রযুক্তি খাত, ভারী যন্ত্রপাতি ও পরিষেবা খাতের কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রযুক্তি খাতে আগের তুলনায় পিছিয়ে ছিল জাপান। ফলে প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমাতে কর্মীদের মজুরি বৃদ্ধি হয়নি। তবে সম্প্রতি আগের অবস্থা থেকে আশানুরূপ অবস্থান ফিরে পাওয়ায় এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টোকিওর হোসেই বিশ্ববিদ্যালয়র অধ্যাপক এবং শ্রমনীতির বিশ্লেষক হিসাশি ইয়ামাদা বলেছেন, ‘শ্রমিক ঘাটতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মজুরি বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কিনা তার ওপর শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্ভর করছে।’

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাবে এখনো সাড়া দেয়নি। জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখনো ট্রেড ইউনিয়নের এ প্রস্তাবের চুক্তিতে একমত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মীদের বার্ষিক ১৯৩ ডলার বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।