গাড়ি সরবরাহ বন্ধ করতে যাচ্ছে জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দাইহাৎসু। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে অন্তত চার শতাধিক সরবরাহকারী ও ৩০ হাজার ডিলার কোম্পানি। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরবরাহকারীরা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের গ্রাহক হারাবে বলেও মনে করেন অনেকে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
প্রতিষ্ঠানটি জাপানের বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটরের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। দাইহাৎসু থেকে সরাসরি গাড়ির সরঞ্জাম সরবরাহ করে এমন প্রতিষ্ঠান ৪২৩টি। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে রয়েছে আরো ৪৭টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, যা কোম্পানিটির মোট ব্যবসার ১০ শতাংশ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ছোট-বড় অংশীদার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ৩৪টি।
প্রতিষ্ঠানটির এমন সিদ্ধান্তে ঝুঁকিতে পড়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কান্তোও অঞ্চলের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, ‘সরবরাহ বন্ধ হলে আমরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়ব। টোকিও ও কান্তোও অঞ্চলে আমাদের বার্ষিক বিক্রয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।’ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে ছোট বা মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করেন ওই নির্বাহী কর্মকর্তা। ফলে তিনি মনে করেন ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে এখনই তাদের নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে।
দাইহাৎসুর জন্য মূল উপাদান তৈরি করে—এমন অন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের একজন নির্বাহী বলেছেন যে অটোমোবাইল সরঞ্জামগুলোর সামগ্রিক চাহিদা কমবে না। যখন এ কোম্পানির গাড়িগুলো পাওয়া যাবে না, অন্য গাড়ি নির্মাতারা দাইহাৎসুর বাজার দখল করে ফেলবে। এর পরও এক বা দুই মাসের জন্য বাজারে একটি বড় চাহিদা থাকবে।
দাইহাৎসুর এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী ৭৭৮টি আউটলেটসহ ৫৮টি অনুমোদিত ডিলার রয়েছে। ডিলারশিপসহ দাইহাৎসুর গাড়ি ক্রয় করে এমন সহযোগীদের মিলিয়ে জাপানে প্রায় ৩০ হাজার আউটলেট রয়েছে।
কানসাই অঞ্চলে দাইহাৎসুর এক ডিলারশিপের ম্যানেজার বলেন, ‘সরবরাহ বন্ধ করার প্রভাব ব্যাপক। কারণ আমরা কেবল নতুন গাড়ি বিক্রয় করি। বিশেষ করে বছর শেষ এবং নতুন বছরের শুরুতে ব্যবসা ভালো হয়। আশা করি, সাম্প্রতিক সেমিকন্ডাক্টর স্বল্পতায় সরবরাহ চেইনে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তা দ্রুত সমাধান হবে।’
জাপানে জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত গাড়ি বিক্রয়ে টয়োটা শীর্ষে ছিল। এরপর রয়েছে যথাক্রমে সুজুকি ও দাইহাৎসু। দাইহাৎসুর ছোট কার হিসেবে হালকা ওজনের কেই ব্রান্ডটি জাপানে খুবই জনপ্রিয়। সার্বিক বাজার মূল্যায়নে দাইহাৎসুর অংশগ্রহণ ৩৩, সুজুকির ৩১ ও হোন্ডা মোটরের ১৮ শতাংশ।










