আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দস্তার ব্যবহার বহুল। এর মাধ্যমে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো মূল্যবান ধাতু নিষ্কাশন করা হয়। এছাড়া লৌহদ্রব্যের মরিচা নিবারণ (গ্যালভানাইজেশন), বৈদ্যুতিক
ব্যাটারি ও ড্রাইসেল, মোটরগাড়ি ও বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরিসহ নানা কাজে দস্তার ব্যবহার হয়। গত বছর নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার পর থেকেই এ ধাতুর উত্তোলন খাতে মন্দা দেখা দেয়। ফলে চাহিদা থাকলেও টান পড়ে সরবরাহে। তবে এ বছর দস্তা উত্তোলনে সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, দস্তা উত্তোলন খাতে গত বছরের মন্দা কাটতে শুরু করেছে। চলতি বছর ধাতুটির উত্তোলন ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছর লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধের কারণে খনিগুলোতে দস্তা উত্তোলন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ২১ লাখ টনে। তবে এ বছর উত্তোলন বেড়ে ১ কোটি ২৮ লাখ টনে উন্নীত হবে।
উত্তোলনে প্রবৃদ্ধির এ ধারা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানায় গ্লোবাল ডাটা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত দস্তা উত্তোলনে যৌগিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৫ সালে ধাতুটির উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৩৯ লাখ টনে।
গ্লোবাল ডাটার সহযোগী প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিনিথ বাজাজ বলেন, দস্তা উত্তোলনে বিশ্বের অষ্টম বলিভিয়া। গত বছর মহামারীর প্রভাবে দেশটির দস্তা উত্তোলন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তবে চলতি বছর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। বর্তমানে দেশটির উত্তোলন খাতে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশটির কলকুইরি, ক্যারো রিকো ও সান ক্রিস্টোবালসহ প্রধান প্রধান খনি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারো চালু হয়েছে। একইভাবে দস্তা উত্তোলনে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশ পেরুর চুয়াঙ্গার মাইনিং ইউনিট এবং এল পরভেনির ও ক্যারো লিন্ডো খনিতে কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে। এসব খনির প্রভাবে চলতি বছর দেশটির দস্তা উত্তোলন ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।
যদিও দস্তাসমৃদ্ধ সব দেশে পুনরুদ্ধারের ঘটনা ঘটবে না বলে মনে করছে গ্লোবাল ডাটা। এর মধ্যে বৈশ্বিক দস্তা উত্তোলনে সপ্তম দেশ কানাডায় উত্তোলন ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমতে পারে। ব্রাজিলে উত্তোলন ১২ দশমিক ২ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত মহামারীর ধাক্কায় এসব দেশের খনিগুলোতে স্থবিরতা উত্তোলন খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এছাড়া পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও চলতি বছর দেশগুলোর জন্য বড় বাধার সৃষ্টি করেছে।
গ্লোবাল ডাটার প্রতিবেদন বলছে, ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত দস্তার বৈশ্বিক উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকো। চলতি বছর এসব দেশের সম্মিলিত উত্তোলন বেড়ে ৩৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালে উত্তোলনের পরিমাণ আরো বেড়ে দাঁড়াবে ৪২ লাখ টনে।
বাজাজ জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দস্তা উত্তোলন খাতে সম্প্রসারণ ঘটাতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম ব্রাজিলের আরিপোয়ানা জিংক মাইন প্রকল্প। আগামী বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে এ প্রকল্পের অধীনে উত্তোলন শুরু হবে। অন্য একটি প্রধান প্রকল্প রাশিয়ার পেভলোভস্কই। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৩ সালে। এদিকে কানাডাও দস্তা উত্তোলনে বড় ধরনের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।










