২০২২ সালে বৈশ্বিক ঋণ কমে ২৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এটিও মহামারীপূর্ব পর্যায়ের চেয়ে বেশি। সার্বিকভাবে বছরটিতে ঋণের পরিমাণ ছিল বৈশ্বিক জিডিপির ২৩৮ শতাংশ। ২০২১ সালে এটি ছিল জিডিপির ২৪৮ শতাংশ। এমনটাই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

আইএমএফের অর্থ বিভাগের পরিচালক ভিটর গাসপার বলেছেন, ‘‌নীতিনির্ধারকদের আগামী বছরগুলোয় বিষয়টি নিয়ে আরো সতর্ক হতে হবে।’ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স (আইআইএফ) চলতি বছরের মে মাসে দাবি করে, ২০২৩ সালের প্রথম তিন মাসে বৈশ্বিক ঋণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এর প্রধান কারণ ছিল দেশে দেশে গৃহীত আর্থিক নীতিমালা। বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার বাড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ১১ বারের মতো সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গত জুনে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ছিল গত চার দশকের সর্বোচ্চ। সুদহার বাড়ানোর ফলে অন্যান্য দেশের সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে ডলার আরো ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

২০২০ সালে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পরও মূল্যস্ফীতি ছিল প্রত্যাশার তুলনায় বেশি। বৈশ্বিক সরকারি ঋণ গত বছর ছিল রেকর্ড উচ্চতায়, ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। অনেক দেশের সরকারই প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারণে ব্যয় করেছে। মহামারীসংশ্লিষ্ট আর্থিক সহযোগিতার বাধ্যবাধকতা কমে যাওয়ায় সুযোগ তৈরি হয়েছে জ্বালানি ও খাদ্য খাতে ব্যয় করার।

বৈশ্বিক সরকারি ঋণের ৩০ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলোর। এর ৭০ শতাংশই আবার ভারত, চীন ও ব্রাজিলের। ৫৯টি উন্নয়নশীল দেশে জিডিপির বিপরীতে ঋণের হার ৬০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ দেশগুলো উচ্চমাত্রার ঋণের জালে আবদ্ধ। এছাড়া নানা সীমাবদ্ধতা, ঋণ খরচ বৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় প্রভাবিত হয়েছে সামগ্রিক অর্থনীতি। যদিও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল আর্কিটেকচার থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অর্থায়ন করা হয়। কিন্তু প্রক্রিয়াটি ব্যয়বহুল। ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই অনেক উদীয়মান দেশের ১০ শতাংশ রাজস্ব চলে যাচ্ছে।

বেসরকারি ঋণের মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালি ব্যয় ও নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেট ঋণ। জিডিপির বিপরীতে এটি ১২ শতাংশ কমেছে। তবে এখন এ পতন মহামারীপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় বেশি। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‌ বৈশ্বিক সরকারি ঋণ ১৯৭০ সালের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। ২০২২ সালে জিডিপির বিপরীতে সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছিল ৯২ শতাংশ। একই সময়ের মধ্যে তিন গুণ হয়েছে বেসরকারি ঋণ। ২০২২ সালে জিডিপির বিপরীতে বেসরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৪৬ শতাংশ। চীনের মোট ঋণ ৪৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ প্রায় ৭০ ট্রিলিয়ন ডলার। 

নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় দুই দশকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে ঋণ। উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় নিম্ন আয়ের দেশের বেসরকারি ঋণ এখনো কম হলেও ঝুঁকি বেশি। আইএমএফের দাবি, অর্ধেকের বেশি নিম্ন আয়ের দেশ ঋণসংক্রান্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উদীয়মান বাজারের এক-পঞ্চমাংশ দেশ রয়েছে এ ঝুঁকিতে। 

সরকারগুলোকে ঋণসংক্রান্ত ঝুঁকি যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। বেসরকারি ঋণের ক্ষেত্রে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর আর্থিক নীতিমালা সহায়ক হতে পারে। সরকারের জন্য ব্যয়সংক্রান্ত সতর্কতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা জরুরি। নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় কর সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।