চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ভিয়েতনামের কফি রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় পণ্যটি রফতানি থেকে আয় বেড়েছে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশটির শুল্ক বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, ২০২২-২৩ মৌসুমে পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন কমার পূর্বাভাস রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দাম সত্ত্বেও শীর্ষ দেশগুলো উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। এক্ষেত্রে দায়ী করা হচ্ছে বৈরী আবহাওয়াকে। এ নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে ভিয়েতনামের ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন খাতসংশ্লিষ্টদের মাঝে আশা জাগিয়েছে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, জানুয়ারি-আগস্ট পর্যন্ত ভিয়েতনাম ১২ লাখ ৫০ হাজার টন কফি রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। রফতানীকৃত এসব কফি থেকে আয় এসেছে ২৮০ কোটি ডলার।
এদিকে গত আট মাসে বাড়লেও আগস্টে দেশটির কফি রফতানি ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫৩১ টনে।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামে কফি বিনের প্রাপ্যতা কমেছে। রফতানি বৃদ্ধিকে এক্ষেত্রে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত কনটেইনার সরবরাহ ও জাহাজ সংকট শিথিল হওয়ায় দেশটি কফি রফতানি বাড়ায়। এতে বিনের মজুদ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। ভিয়েতনামের কফি ব্যবসায়ীরা বলেন, নভেম্বরের শুরুর দিকে ভিয়েতনামের বাজারে কফির সংকট দেখা দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২২-২৩ মৌসুমে কফির বৈশ্বিক উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে রাবোব্যাংক। এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২২-২৩ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী কফি উৎপাদন কমে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ব্যাগে (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) নামার আশঙ্কা রয়েছে। আগের মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ২৩ লাখ।
ব্যাংকটির পূর্বাভাস বলছে, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে বিশ্ববাজারে ১৩ লাখ ব্যাগ কফির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দেবে অ্যারাবিকা কফির। যদিও এর আগে ব্যাংকটি এ মৌসুমে ১৭ লাখ ব্যাগ উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিল। ওই সময় ব্যাংকটি বলেছিল, বিশ্বব্যাপী কফির চাহিদা বেশ স্থিতিশীল। পাশাপাশি ভোক্তাদের কফি ব্যবহারও কমতে পারে।










