রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ায় উন্নত যন্ত্র (কম্পিউটার নিউমেরিকাল কন্ট্রোল বা সিএনসি) রফতানি ১০ গুণ বেড়েছে চীনের। পণ্য তৈরির কাজের জন্য সঠিকভাবে ধাতু কাটতে এ যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এগুলো রাশিয়ার সামরিক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউক্রেনের মিত্ররা রাশিয়ার এ সামরিক শক্তি অর্জন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

রাশিয়ার কাস্টমস অফিসের তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ে রাশিয়ায় ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের সিএনসি বিক্রি করেছে চীন। এটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির ৬৫ লাখ ডলার মূল্যের বিক্রির চেয়ে বেশি।

সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক মাইকেল রাসকা জানান, সিএনসি রফতানির মাধ্যমে চীন ও রাশিয়া সামরিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো এ ধরনের যন্ত্র বিক্রি না করায় চীনের ওপর রাশিয়ার নির্ভরতা আরো বেড়েছে। রাশিয়া এর আগে ইউরোপ থেকে সিএনসি ক্রয় করত। কিন্তু এখন রাশিয়ার সিএনসি আমদানির ৫৭ শতাংশই চীন থেকে আসছে। অন্যান্য সরবরাহকারীর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

২০২৩ সালের নভেম্বরে রাশিয়ার কাছে সিএনসি বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এখন চীনা কোম্পানিগুলো আগামীতে বাণিজ্য জটিলতার মুখে পড়তে পারে।

বেইজিং জানায়, তারা মস্কোয় অস্ত্র পাঠায় না। তবে সামগ্রিকভাবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত অক্টোবরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক কনফ্লিক্ট এনালিস্ট সংস্থা সি৪এডিএসের বিশ্লেষক অ্যালেন ম্যাগার্ড জানান, ধাতব ও অন্যান্য শক্ত উপকরণ সহজে কাটতে সিএনসি ব্যবহার হয়। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সিএনসির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের রফতানি রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিএনসির চীনা রফতানিকারকদের সঙ্গে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একটি রফতানি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উহান হুয়াঝং নিউমেরিকাল কন্ট্রোল। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে চীনা ফাইটার জেট প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কাজ করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর এখনই বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অনিচ্ছুক। বরং চীনের সঙ্গে আগামীতে সম্পর্কের অবনতি হলে তারা নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। তাই রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পণ্য তৈরি যেন আরো কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়, সেদিকে মনোযোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্যাংক অব ফিনল্যান্ড ইনস্টিটিউট ফর ইমার্জিং ইকোনমিকসের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২১-২৩ সাল পর্যন্ত চীনা যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্যের গড় মূল্য ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। 

অন্যদিকে অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে রফতানি মূল্য বেড়েছে মাত্র ১২ শতাংশ।

রাশিয়া কী কাজে চীনা সিএনসি ব্যবহার করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্লেষক অ্যালেন ম্যাগার্ড ধারণা করছেন যে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কারখানায় এসব যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে চীনা সিএনসির গুণগত মান ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে রাশিয়ার প্রশ্ন রয়েছে।