চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে চাল রফতানি নিয়ে আশাবাদী থাইল্যান্ড। কারণ খরার উদ্বেগে ক্রেতা দেশগুলো মজুদ বাড়াতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে। এ লক্ষ্যে আমদানি বাড়াচ্ছে দেশগুলো। খবর ব্যাংক পোস্ট।

থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এখনই আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। এল নিনো বা খরা পরিস্থিতি চাল উৎপাদনে কতটা প্রভাব ফেলবে তার ওপর নির্ভর করছে রফতানি। মূলত জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ওপর উৎপাদন পরিস্থিতি নির্ভর করছে। উৎপাদন নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। কারণ আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলের উৎপাদন বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। স্বাভাবিকভাবে প্রতি বছর ২ কোটি ৪০ লাখ টন চাল উৎপাদন করে থাইল্যান্ড। অফ সিজনে উৎপাদন হয় ৮০ লাখ টন। এ সময় উৎপাদন নিয়ে কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ সেচ ব্যবস্থার জন্য পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে।

অ্যাসোসিয়েশন আরো জানায়, এশিয়াজুড়ে এ বছর খরার আশঙ্কা রয়েছে। এতে ভারত, ভিয়েতনাম ও চীনসহ প্রধান দেশগুলোয় চাল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

এ উদ্বেগে আমদানিকারক দেশগুলো উল্লেখযোগ্য হারে চাল কিনছে। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ চালের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। ফিলিপাইন ও চীন ভিয়েতনাম থেকে বড় পরিসরে চাল কিনছে।

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভিয়েতনামের চাল রফতানি দাঁড়িয়েছে ৪০ লাখ টনে। একই সময় থাইল্যান্ড রফতানি করেছে ৩৪ লাখ টন। ভিয়েতনাম বছর শেষে ৭৫ লাখ টন চাল রফতানি করতে পারে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটির রফতানি কিছুটা কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা থাইল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ। এ বছর থাইল্যান্ড ৮০ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি করতে পারে, যা দেশটির লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ বছর ৭৫ লাখ টন চাল রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে থাইল্যান্ডের।

ভিয়েতনাম বর্তমানে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৫০০ ডলারে রফতানি করছে। একই চাল থাইল্যান্ড রফতানি করছে ৪৯৫ ডলারে।