পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে রাশিয়ার জ্বালানি তেল, ধাতব ও খাদ্যশস্যসহ সব ধরনের পণ্য রফতানি প্রবাহ। মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি। শুধু রাশিয়াই নয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতিসহ বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে পড়বে পশ্চিমা দেশগুলোও। বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা এমনটা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সংবাদ বলছে, রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফট থেকে রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংককে বাদ দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলো।
এক দেশ থেকে আরেক দেশের ব্যাংকে আর্থিক লেনদেন করতে সুইফট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। তেল ও গ্যাস রফতানির মাধ্যমে রাশিয়া যে অর্থ আয় করে, সে অর্থ আদায়ে দেশটি সুইফটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
তবে গ্যাজপ্রম ব্যাংকসহ যেসব ব্যাংক জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পেমেন্ট নিয়ে কাজ করে সেগুলোর কয়েকটি এ নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে বেঁচে যেতে পারে। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইফটের বিকল্প কোনো ব্যবস্থায় স্থানান্তর হতে সময় লাগবে রাশিয়ার। ফলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এ বিধিনিষেধ জ্বালানিপ্রবাহের জন্য বড় প্রতিন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার বলি হতে পারে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও। যেকোনো সময় এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারে পশ্চিমা দেশগুলো। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি খাতকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবমুক্ত রাখতে কাজ চলছে।
এনার্জি আসপেক্টস থিংক ট্যাংকের সহপ্রতিষ্ঠাতা অমৃতা সেন বলেন, জ্বালানি লেনদেন প্রক্রিয়াকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হলেও সুইফট থেকে রুশ ব্যাংকগুলোকে বাদ দেয়া হলে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রবাহ ভয়াবহভাবে ব্যাহত হতে পারে। অন্তত ক্রেতারা যত দিন পর্যন্ত না টেলেক্স বা অন্য বিকল্প ব্যবস্থার শরণাপন্ন হচ্ছেন তত দিন পর্যন্ত প্রতিবন্ধকতা কাটবে না। তিনি আরো বলেন, নিষেজ্ঞাধা বহাল থাকলে প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্তি পাবে না অন্যান্য পণ্যের বাণিজ্যও।
তথ্য বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ১০ শতাংশই উত্তোলন করে রাশিয়া। ইউরোপে আমদানীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৪০ শতাংশই সরবরাহ করে দেশটি। শুধু তা-ই নয়, দেশটি বিশ্বের শীর্ষ খাদ্যশস্য ও সার রফতানিকারক। এছাড়া প্যালাডিয়াম ও নিকেল রফতানিতে প্রথম, কয়লা ও ইস্পাত রফতানিতে তৃতীয় এবং কাঠ রফতানিতে পঞ্চম।
অন্তত ১০ জন জ্বালানি তেল ও পণ্য ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে যদি জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা না হয় তবে পশ্চিমের দেশগুলোয় সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, সুইফটের বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকের রুশ শাখার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পণ্যটির দাম ১২৫ ডলারে উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক। অন্যদিকে গমের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে উঠে এসেছে। রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে অন্যান্য পণ্যের দামও।










