নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও মিসরের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছবে। দেশটির ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এ প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রভাবকের ভূমিকায় থাকবে। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর আরব নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমবর্ধমান মূল্যম্ফীতির কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে জরুরিভাবে অর্থনৈতিক সংস্কার প্রয়োজন।

ওইসিডির অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে মিসরের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যা ধীরে ধীরে বেড়ে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে ৫ দশমিক ১ শতাংশ উন্নীত হবে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমে গেলে এবং ধীরে ধীরে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করা হলেও দেশটির জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় থাকবে। মূলত মিসরের জনগণের ভোগসংক্রান্ত ব্যয় এ প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকলে দেশটিতে অর্থায়নের শর্তও কঠিন থাকবে। ফলে বিনিয়োগও দুর্বল থাকবে। তবে একই সময়ে অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমলে রফতানি বৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওইসিডির মহাসচিব ম্যাথিয়াস কোরম্যান ভোগব্যয় বাড়াতে এবং উৎপাদনশীলতা গতিশীল করতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘‌প্রবৃদ্ধির গতি জোরদার করা এবং মানুষের ব্যয় প্রবণতা বাড়াতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় ফিরে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন জারি রাখতে হবে।’

কভিড-১৯ মহামারীর সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ভালো বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বেশ বিপত্তির মুখে পড়ে মিসর। দেশটির অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ৪০ দশমিক ৪ শতাংশের রেকর্ড মাত্রায় বেড়ে যায়, যা এক বছর আগের ১৫ দশমিক ৩ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

ওইসিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ভোগের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, দেশীয় মুদ্রাকে দুর্বল করেছে এবং বিনিয়োগকেও বাধাগ্রস্ত করেছে। ফলে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়েছে।

যদিও দেশটির মূল্যস্ফীতি এখন কমতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালে এসে মিসরের মূল্যস্ফীতি ৩১ দাঁড়িয়েছে দশমিক ২ শতাংশে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ বাজেটে ২ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রাথমিক বাজেট উদ্বৃত্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও উচ্চ সুদের কারণে সামগ্রিক ঘাটতি ঋণাত্মক ৭ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াবে।

ওইসিডি সমীক্ষায় মিসরের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ব্যাপক সংস্কার নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং বেসরকারি খাতের বৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে মিসর বর্তমান মন্দা এড়াতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।