বৈরী আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে রফতানি নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমের জন্য পণ্যটির উৎপাদন পূর্বাভাস ৭ শতাংশ কমিয়েছে দেশটির সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন। নতুন পূর্বাভাসে উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ টন।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান প্রধান রাজ্যে আখ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে মৌসুম শেষে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম চিনি উৎপাদনের আশঙ্কা রয়েছে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক। দেশটিতে চিনি উৎপাদন নিম্নমুখী হয়ে পড়লে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রফতানিতেও। ফলে বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যটির দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠতে পারে। এ সুযোগে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল ও থাইল্যান্ড রফতানি জোরদার করতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া বিপণন মৌসুমে ভারত রেকর্ড ১ কোটি ১০ লাখ টন চিনি রফতানি করেছে। কিন্তু অক্টোবরে শুরু হওয়া নতুন মৌসুমে সরকার মিলগুলোকে রফতানির অনুমতি দিয়েছে মাত্র ৬১ লাখ টন। মূলত মৌসুমের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির কারণে রফতানি সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে দেশটির সরকার।

সরকারসংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেলে মৌসুমের দ্বিতীয় ধাপে রফতানি বাড়ানো যাবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মিলগুলো এরই মধ্যে ৫৬ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি করেছে। উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সরকার রফতানির জন্য অতিরিক্ত ২০-৪০ টনের অনুমোদন দিতে পারে।