জ্বালানি তেল উত্তোলনে দীর্ঘদিন ধরে তৃতীয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে রাশিয়া। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকাতে ও জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণে গঠিত ওপেক প্লাস জোটের নেতৃত্বেও রয়েছে দেশটি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকোর দুটি স্থাপনায় হামলার পর দেশটির উত্তোলন ও সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এ সময় সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াতেও প্রস্তুত ছিল রাশিয়া। দেশটি দৈনিক উত্তোলন বাড়িয়ে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবেলা করতেও প্রস্তুত ছিল। এছাড়া দিনে দিনে দেশটি তাদের উত্তোলন সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে, যা দেশটির জ্বালানি তেলের বাজারে আধিপত্য বিস্তারের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হয়।
যার হাত ধরে রাশিয়া জ্বালানি তেলের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে চলেছেন, তিনি হলেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক। ২০১২ সাল থেকেই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি মস্কোয় রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন, সৌদি আরামকোয় হামলার পর তারা যেকোনো সাহায্যের জন্য প্রস্তুত ছিল। তিনি সৌদি
জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং সাহায্যের কথা জানান। কিন্তু সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অবস্থা মোকাবেলায় সক্ষমতার কথা জানানো হয়েছিল বলে জানান নোভাক।
নোভাক দায়িত্ব নেয়ার পর রাশিয়ার জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর উত্তোলন সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। যে কারণে দেশটি জ্বালানি পণ্যটি উত্তোলন বাড়িয়েছে, যা রাশিয়াকে আপত্কালীন জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের একচ্ছত্র সক্ষমতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এর আগে একমাত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন সক্ষমতা ছিল।
রাশিয়ার এ সক্ষমতায় বিবেচনায় নিয়ে আরামকোয় হামলার দুদিন পর নোভাককে ডেকেছিলেন সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আব্দুল আজিজ বিন সালমান। কারণ তিনি জানতেন, যেকোনো মুহূর্তে রাশিয়া দৈনিক উত্তোলন তিন থেকে পাঁচ লাখ ব্যারেল বাড়াতে সক্ষম হবে। অথবা বৈশ্বিক উত্তোলনের দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত উত্তোলন বাড়াতে পারবে। যে কারণে সৌদি আরবের দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরে আসতে অসুবিধা হলে রাশিয়াকে দিয়ে আপত্কালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চেয়েছিল সৌদি আরব। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটির প্রয়োজন হয়নি।
সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কালে নোভাক আশ্বস্ত করে জানান, তার দেশের দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া জোটের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলন কমিয়ে আনার কারণে সক্ষমতা কমলেও এটি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম রাশিয়া।
নোভাকের হাত ধরেই ওপেক প্লাস জোটের যাত্রা হয়। পরে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে আবশ্যকীয় ব্যক্তি হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছেন নোভাক। সে কারণে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের মহাসচিব মোহাম্মাদ বারকিনদো এখন ওপেকভুক্ত দেশ সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে নোভাকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ সৌদি আরামকোয় হামলার পেছনে ইরানকে দায়ী করায় দুই দেশের মধ্যে এখন খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে।
এমনকি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আস্তাভাজন হিসেবে পরিচিতদের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও জ্বালানি বাজার চাঙ্গা করতে দেশটির কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত উত্তোলন কমিয়ে আনতে সক্ষম নোভাক। বিরোধী পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, উত্তোলন কমালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাজার হারাতে পারে রাশিয়া। যদিও সেটিতে কর্ণপাত করেননি তিনি।
নোভাকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় ৫০ বছর ব্যবহারের মতো জ্বালানি তেল এবং ১০০ বছরের মতো গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা থেকে উত্তোলন বাড়িয়ে তা অর্থে রূপান্তর করতে চায় রাশিয়া। এমনকি ২০৩০ সালের মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উৎপাদন পাঁচ গুণ ব?










