দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে চিনির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনিতে দাম বেড়েছে ৩২৫ টাকা। আর কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৫ টাকা ৫০ পয়সা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর ফলে চিনির দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মিল মালিকরা।
গতকাল নিতাইগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সিটি গ্রুপের তীর চিনি প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৮২৫ টাকায়। যা কেজিপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। একই দামে বেচাকেনা হচ্ছে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ চিনি। এক সপ্তাহ আগে একই চিনি বেচাকেনা হয়েছিল ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর কেজির হিসাবে যা বিক্রি হয় ৫০ টাকা দরে। অন্যান্য কোম্পানির চিনি বস্তাপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে বেচাকেনা হচ্ছে।
নিতাইগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ী দিলিপ রায় বণিক বার্তাকে, মিলগেট থেকে চিনির দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে কী কারণে চিনির দাম বেড়েছে, সেটি সঠিকভাবে বলতে পারছি না। মিল থেকে বেশি দামে চিনি কিনে পরিবহন খরচ মিলিয়ে আমাদের পাইকারি বাজারে ৫৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, চিনির বাজার মূলত নিয়ন্ত্রণ করে সিটি গ্রুপের তীর কোম্পানি। এই কোম্পানি দাম বাড়ালে সব কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, বাজারে চিনির সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয় তীর চিনি ও ফ্রেশ চিনি। বাকি যে কোম্পানিগুলো রয়েছে সেগুলোর উৎপাদনক্ষমতা এই দুটি কোম্পানি থেকে অনেক কম। যে কারণে তীর ও ফ্রেশ কোম্পানির চিনির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অন্য কোম্পানিগুলো টিকতে পারে না।
বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জানান, প্রতি বছরই শীতের সময় এলে বাজারে চিনির চাহিদা কিছু বেড়ে যায়। সে কারণে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি চিনির দাম এক বা দুই টাকা বেড়ে যায়। তবে এবার অন্যান্যবারের তুলনায় বেশি বেড়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী কাদেরিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল কাদির মনে করেন মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, অন্য কোনো বছর চিনির দাম এত বৃদ্ধি পায় না। বাজারে চিনির কোনো সরবরাহ ঘাটতি বা সংকট নেই। মিল থেকে পণ্য ছাড় করা নিয়ে কোনো জটিলতাও হচ্ছে না। তার পরও চিনির দাম বাড়ছে।
অপরিশোধিত চিনি আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোয় চিনির দাম বাড়ছে—মিল মালিকদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে এ ব্যবসায়ী বলেন, সরকার বাজেট ঘোষণা করেছে প্রায় ছয় মাস অতিক্রম করেছে। বাজাটের ছয় মাস পর কেন মিলগুলো আমদানি শুল্ক বাড়ানোর অজুহাতে চিনির দাম বাড়াচ্ছে, বিষয়টি বুঝতে পারছি না। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে পাইকারিতে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। নগরীর বাবুরাইল বৌবাজার এলাকায় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, এক বস্তা চিনি নিতাইগঞ?










