চলমান গ্যাস সংকটে ইউরোপের বড় আমদানি উৎস হতে চায় ইউক্রেন। এর মাধ্যমে দেশটি রাশিয়ার ওপর থেকে ইউরোপের জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। এমনটা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি জায়ান্ট নাফটোগ্যাসের সিইও ইউরিভ ভিটরেঙ্কো। 

তিনি বলেন, নাফটোগ্যাস প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বিকল্প জ্বালানিতে স্থানান্তরের চেষ্টাও চলছে। দেশটি পর্যাপ্ত গ্যাস উত্তোলন ও মজুদের মাধ্যমে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে ইউরোপের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করতে চায়।

সিইও বলেন, ইউরোপে রাশিয়ার বিকল্প উৎস হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে ইউক্রেনের। এক্ষেত্রে পশ্চিমা মিত্রদের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আমরা নতুন কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ইউক্রেনে গ্যাস উত্তোলন ১০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। কোম্পানিটি পাথরের খাঁজ ও ভূগর্ভ থেকে গ্যাস অনুসন্ধান এবং খননকাজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

ভিটরেঙ্কো বলেন, গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বায়োমাস উপাদানে রূপান্তরেও কাজ করছে নাফটোগ্যাস। ইউক্রেনের ১ হাজার কোটি ঘনফুট বায়োমাস জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান তিনি, যা রাশিয়ার হামলার আগে ইউক্রেনের মোট আমদানীকৃত গ্যাসের সমপরিমাণ।

তবে কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি উত্তোলন বাড়ানোর যে পরিকল্পনা করেছে, তা বাস্তবায়ন আদতে সম্ভব নয়। কারণ কয়েক বছর ধরেই ইউক্রেন স্থানীয় উত্তোলন বাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা আপাতদৃষ্টিতে নেই বললেই চলে।

দেশটির গ্যাসের মজুদ নিম্নমুখী। গত বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে ইউক্রেন ১ হাজার ৯৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে দেশটির সরকার নাফটোগ্যাসকে অন্তত ১ হাজার ৯০০ কোটি ঘনফুট মজুদ কেন্দ্রগুলোয় সংরক্ষণ করতে বলেছিল। কিন্তু কোম্পানিটি ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৩০০ কোটি ঘনফুট সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির ন্যাচারাল গ্যাস ট্রান্সমিশন অপারেটর (জিটিএস ইউক্রেন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তথ্য বলছে, ২০১৫ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে সরাসরি গ্যাস কেনা বন্ধ করে দেয় ইউক্রেন। বিপরীতে দেশটি ইউরোপের কাছ থেকে রাশিয়ান গ্যাস আমদানি শুরু করে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে এনেছে রাশিয়া। এর ফলে ইউক্রেন গ্যাসের মজুদ বাড়াতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।