মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বৃদ্ধি আবার শুরু করতে যাচ্ছে, এমন আশঙ্কায় এশিয়ার পুঁজিবাজার ফের নিম্নমুখী। ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতি অনুসারে চলতে থাকা একমুখী উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা হিসেবে সুদহার বৃদ্ধি করে আসছে। খবর এএফপি।
মার্কিন মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও স্থানীয় পুঁজিবাজার পতনের পথে এগোচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ মূল্যস্ফীতি রোধে কঠোর নীতিকে আরো কঠোর করা নিয়ে চিন্তিত। ফেডারেল রিজার্ভে সুদহার বৃদ্ধির পরিকল্পনা শেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার কয়েক মাস পর চীনের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান অর্থনীতিতে মন্দার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার গতি ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করেছে সেখানে, যা নেতিবাচক মনোভাবকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এদিকে ইকুইটি ক্রয়ের প্রবণতা সম্প্রতি আরো মন্থর হয়েছে, এমন খবরে কিছু মার্কিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিষেবা খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির হার দেখা গেছে। বিশ্লেষণ অর্থনীতির রুগ্ণ অবস্থাকে ইঙ্গিত করছে টানা ১০ বার সরাসরি সুদহার বৃদ্ধির পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, এটি জুলাইতে সুদ বৃদ্ধির আশঙ্কাকে আরো বেশি পাকাপোক্ত করেছে। এছাড়া ট্রেজারি রফতানি বেড়েছে, সম্ভাব্য মন্দার প্রভাবের পাশাপাশি। স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারিগুলোর জন্য উচ্চ সুদহারের একটি উন্মুক্ত মন্দার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন বিনিয়োগকারীরা অর্থনীতি ও ফেডারেল রিজার্ভের পরিকল্পনা সম্পর্কে আরো অন্তর্দৃষ্টির জন্য নন-ফার্ম পে-রোল পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছে। ওয়াল স্ট্রিট ও ইউরোপীয় ইকুইটিগুলোও মন্দাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি সূচক ডুবেছে আর ইউএসের আঞ্চলিক ব্যাংকিং সংকটের সময় ইউরোপীয় ইকুইটিগুলো মার্চ-পরবর্তী সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে হংকং, সিডনি, সিওল, টোকিও, সাংহাই, সিঙ্গাপুর, তাইপে, ম্যানিলা ও জাকার্তাসহ এশিয়ার বাজারগুলোয় পতন দেখা গেছে।
এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্টিফেন ইনেস সতর্ক করে দিয়েছিলেন, যত বেশি সময় ডাটা পয়েন্ট একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে থাকবে, ফেড তত বেশি কঠোরকরণের নীতিকে আরো শক্ত করতে থাকবে। তিনি বলেন, মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতিপথের উন্নতির সঙ্গে ফেডারেল রিজার্ভ যেকোনো সময় সুদহার কমাতে পারে তা পূর্বাভাস করা ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং বিষয় হয়ে উঠছে। বরং মার্কিন অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, ফেড তত বেশি সময় ধরে সুদহার বাড়ানো অব্যাহত রাখবে।
পুঁজিবাজারের ব্যবসায়ীরা চীনের ওপর নজর রাখছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য চারদিনের সফরে আছেন। যদিও বড় কোনো নীতিগত অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে না এ সফর থেকে। চীন বর্তমানে সুনির্দিষ্ট নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পুনরুজ্জীবিত করার কাজ করছে। তবে সেখানেও সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ থেকে যায়।










