ভারতের ভোজ্যতেল আমদানিতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় রফতানিতে মূল্যছাড় ও শুল্ক সুবিধা দেয়ায় দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ পাম অয়েল আমদানি করছে ভারত। অন্যদিকে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম কম থাকায় দেশটি থেকেও আমদানি বাড়ছে। মূলত পাম অয়েল আমদানি বাড়ার কারণেই ভোজ্যতেল আমদানি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। সলভেন্ট এক্সট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশন (এসইএ) অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, গত সেপ্টেম্বরে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৯৩ লাখ টনে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৭৫ লাখ টন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি বৃদ্ধিকে শক্তিশালী করেছে পাম অয়েলের আমদানি ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি। এর মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত দুই ধরনের পাম অয়েলই। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে সূর্যমুখী তেলের আমদানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ১১ শতাংশ, সয়াবিন তেলের বেড়েছে ৭ শতাংশ।
সলভেন্ট এক্সট্রাকটরস অ্যাসোসিয়েশন (এসইএ) অব ইন্ডিয়ার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ভারতে ১১ দশমিক ৭১ লাখ টন পাম অয়েল, ১ দশমিক ৫৯ লাখ টন সূর্যমুখী তেল এবং ২ দশমিক ৬১ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়েছে।
এসইএ অব ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক বি ভি মেহতা বলেন, চলতি তেলবর্ষের প্রথম ১১ মাসে আরবিডি পামঅলিনের আমদানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ১২ লাখ টন। যা আগের তেলবর্ষের একই সময়ে ছিল ৬ দশমিক ২৮ লাখ টন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭২ শতাংশ, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এ প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তিন মাস আগ পর্যন্ত অপরিশোধিত পাম অয়েলের ওপর উচ্চ রফতানি শুল্ক আরোপ এবং আরবিডি পামঅলিনের ওপর কম কর আরোপ। এর ফলে আমদানিকারকরা ছাড়কৃত দামে ইন্দোনেশিয়া থেকে আরো বেশি আরবিডি পামঅলিন কিনতে পেরেছেন। ২০২১-২২ তেলবর্ষের প্রথম ১ মাসে মোট ভোজ্যতেল আমদানির ১৪ শতাংশই ছিল আরবিডি পামঅলিন, যা এর আগের তেলবর্ষে ছিল মাত্র ৫ শতাংশ।
এ তেলবর্ষের নভেম্বর থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়া ২৮ দশমিক ১৩ লাখ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল এবং ৫ দশমিক ৩০ লাখ টন আরবিডি পামঅলিন রফতানি করেছে। এ সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানি করেছে ১৭ দশমিক ১৫ লাখ টন এবং আরবিডি পামঅলিন করেছে ১১ দশমিক ৬১ লাখ টন।
এ ১১ মাসে আমদানি হওয়া মোট ভোজ্যতেলের মধ্যে পাম অয়েলের আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৮ লাখ টন। গত বছর একই সময়ে যা ছিল ৭৬ দশমিক ২৭ লাখ টন। অন্যান্য তেলের আমদানি বেড়ে ৫৬ দশমিক ৩৫ লাখ টন পর্যন্ত, যা আগের বছর ছিল ৪৪ দশমিক ৫৮ লাখ টন।
চলতি তেলবর্ষের প্রথম ১১ মাসে ভারত ৩৮ দশমিক ৩৭ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি করেছে ভারত। ২০২০-২১ তেলবর্ষে যার পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৪৮ লাখ টন। চলতি তেলবর্ষে যে পরিমাণ সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়েছে তার মধ্যে ২৪ দশমিক ২৮ লাখ টন আমদানি করা হয়েছে আর্জেন্টিনা থেকে, ১০ দশমিক ৬৪ লাখ টন ব্রাজিল থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ১ দশমিক ৫৯ লাখ টন।










