শুল্ক প্রত্যাহারের দুই মাস পর প্রবৃদ্ধি ফিরেছে ভারতের ইস্পাত রফতানিতে। গত মাসে ধাতুটির রফতানি ডিসেম্বরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৯০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। দেশটির ইস্পাতবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক মাসের ব্যবধানে রফতানি বাড়লেও এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ২৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ভারত ৫৩ লাখ ৩০ হাজার টন পরিশোধিত ইস্পাত রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময় রফতানি করা হয়েছিল ১ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার টন। এ সময় রফতানি কমার মূল কারণ অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্বল চাহিদা।
ইস্পাত মন্ত্রণালয় বলছে, গত মাসে ভারত নন-অ্যালয়েড ইস্পাত রফতানি করেছে ৫ লাখ ২০ হাজার টন। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ২৭ শতাংশ। ১০ মাসে রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৪৭ হাজার টন, যা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম।
অন্যদিকে গত মাসে অ্যালয়েড ও স্টেইনলেস ইস্পাত রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমে ৭০ হাজার টনে ঠেকেছে। তবে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এসব ইস্পাত রফতানি ১১৬ শতাংশ বেড়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।
ভারত গত মাসে ৫ লাখ ৯৬ হাজার টন ইস্পাত আমদানি করেছে। ডিসেম্বরের তুলনায় আমদানি ৯ শতাংশ কমেছে। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে আমদানির পািরমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ টন, যা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। জানুয়ারিতে ভারত ছিল ইস্পাতের নিট আমদানিকারক। টানা পাঁচ মাস ধরেই এ অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে ইস্পাত রফতানির ওপর শুল্কারোপ করে ভারত সরকার। ফলে ধাতুটির রফতানি মূল্য বেড়ে যায়। প্রতিযোগিতার বাজার হারায় ভারতীয় ইস্পাত। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নভেম্বরের শেষ দিকে ইস্পাতের ওপর থেকে রফতানি শুল্ক উঠিয়ে নেয় ভারত। ওই সময় আকরিক লোহার রফতানি শুল্ক কমানো হয়। তখন দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, এ উদ্যোগ ভারতের ইস্পাত শিল্পকে আরো প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে রফতানিতে গতি ফিরে আসবে।










