ভারতে এবার ২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যায় দেশটির বেশির ভাগ কৃষিপণ্যের ফলন ব্যাহত হলেও তুলার জন্য তা সুফল বয়ে এনেছে। এবার পণ্যটির বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্বের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশটিতে বাড়তি ফলনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমতে পারে পণ্যটির। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। খবর ব্লুমবার্গ।

চলতি মাস থেকে ভারতে শুরু হয়েছে ২০১৯-২০ তুলা উৎপাদন বর্ষ। কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, চলতি উৎপাদন বর্ষে দেশটিতে মোট ৩ কোটি ৬৫ লাখ বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি) তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

মুম্বাইয়ের কোটাক কমোডিটি সার্ভিসের পরিচালক বিনয় এন কোটাক বলেন, কয়েক বছর ধরে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদনে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। এতে চাহিদা অনুপাতে বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বেড়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পণ্যটির দামে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। এছাড়া মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে গত বছর পণ্যটির দাম আরো কমে আসে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলার দাম আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ কমে যায়।

এ পরিস্থিতি এবার আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। কৃষিপণ্যটির অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারতে বাড়তি উৎপাদনের জেরে এবার রফতানিতে চাঙ্গা ভাব বজায় থাকতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত সরবরাহে দাম আরো কমে আসতে পারে। এতে টেক্সটাইল কোম্পানিগুলো লাভবান হলেও কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

চলতি বর্ষে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫০ লাখ বেল তুলা রফতানি হতে পারে। আগের বছর এর পরিমাণ ছিল ৪৪ লাখ বেল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির রফতানি বাড়তে পারে ছয় লাখ বেল। এর মধ্যে চীনে রফতানি হতে পারে ১৫ লাখ বেল। আগের বছর দেশটি ভারত থেকে মোট ১২ লাখ বেল তুলা কিনেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চীনে ভারত থেকে তুলা রফতানি বাড়তে পারে তিন লাখ বেল।

এদিকে আগস্টে শুরু হয়েছে ২০১৯-২০ বৈশ্বিক তুলা উৎপাদন বর্ষ। দি ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির (আইসিএসি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ টন তুলা উৎপাদন হতে পারে। যেখানে কৃষিপণ্যটির বৈশ্বিক ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৬৫ লাখ টনে। অর্থাৎ এবার চাহিদা অনুপাতে তুলার সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকতে পারে তিন লাখ টন।