ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার বানে রাশিয়াকে জর্জরিত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মঙ্গলবার রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা জারির পর ব্রিটেনও আমদানি বন্ধ করবে বলে জানিয়েছে।

এর আগে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করবে বলে জানিয়েছিল বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেল। ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এরই মধ্যে আজ বুধবার ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৩০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আজ ১ ডলার ৬৮ সেন্ট বেড়ে ১২৯ ডলার ৬৬ সেন্টে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৬০ ডলার বেড়ে ১২৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত সোমবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১৩৯ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, যা ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোং জানিয়েছে, রাশিয়ার সমুদ্র থেকে উত্তোলিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য ক্রেতা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

অয়েল ব্রোকার কোম্পানি পিভিএম-এর কর্মকর্তা টামাস ভার্গা বলেন, অদূর ভবিষ্যতে চলমান সংকট থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা নেই। এর ফলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তির দিকেই থাকবে।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে পূর্বারোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। দেশটিও গত কয়েক মাস ধরে জ্বালানি তেল রফতানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্থাপনের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে। ফলে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি সম্ভাব্য উৎস্য হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি।