থাইল্যান্ডে পারিবারিক ঋণ এবং নন-পারফর্মিং লোনের (এনপিএলএস) পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে তালিকাভুক্ত লিজিং কোম্পানিগুলো। বিশ্লেষকদের মতে, এতে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। খবর ব্যাংককপোস্ট।

সিজিএস-সিআইএমবি সিকিউরিটিজের ম্যাক্রো অ্যান্ড ওয়েলথ রিসার্চের প্রধান জিতিপোল পুক্সমাতানান বলেন, ‘‌প্রথম বাড়ি ও গাড়ি কেনার সরকারি নীতির কারণে থাইল্যান্ডে পারিবারিক ঋণের সংখ্যা বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে। ভোক্তাকে প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করছে, যা পারিবারিক ঋণের অবস্থা আরো খারাপ করে তুলেছে। ফলে অনেক ঋণ এনপিএল (নন-পারফর্মিং লোন)0হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘‌এ সমস্যার ফলে ক্রয়ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি মাথায় রেখেও দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো পারিবারিক ঋণ কমাতে স্পষ্ট কোনো নীতিমালা হাতে নেয়নি। অন্যদিকে বর্তমানে সুদহার বাড়ায় ঋণ সেবাও কমার পথে। কেননা অসুরক্ষিত ঋণ উচ্চঝুঁকি বাড়ায়।’

জিতিপোল বলেন, ‘‌উচ্চ পারিবারিক ঋণের সমস্যা ব্যক্তিগত ঋণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। তারা ঋণ ফেরত পাওয়া নিশ্চিত করতে গ্রাহক থেকে আরো বেশি পরিমাণ জামানত চাইতে পারে।’

তার মতে, উচ্চ পারিবারিক ঋণের ফলে ইজারা, হায়ার পারচেজ ও ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবসা খাতগুলোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। হায়ার পারচেজ হচ্ছে কোনো দামি বস্তু বা জমি ডাউনপেমেন্টের মাধ্যমে কেনা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুদসহ বাকি অর্থ ইনস্টলমেন্টে পরিশোধ করা। তাই বিনিয়োগকারীদের নিম্ন স্তরের এনপিএল ও স্থিতিশীল আর্থিক অবস্থাসম্পন্ন কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

চলতি বছর ঋণ স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গাড়ি ভাড়া-ক্রয় খাতে এনপিএলের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে পুনরুদ্ধারের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৩ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ৮০-৯০ হাজার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের জন্য রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩-৫ শতাংশ বেশি।

ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার করতে এবং নভেম্বরে শুরু হওয়া পারিবারিক ঋণ ঠেকাতে ব্যাংক অব থাইল্যান্ড গাড়ি ও মোটরসাইকেল লিজিং নিয়ন্ত্রণ আইন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, মোট পারিবারিক ঋণের ১২ দশমিক ৪ শতাংশই ব্যয় হয়েছে অটো লিজিং খাতে, যার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

সিজিএস-সিআইএমবি বলেছে, ‘‌থাইল্যান্ডের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ফাইন্যান্স ও লিজিং কোম্পানিগুলোর জন্য আইনটি কিছুটা নেতিবাচক হবে। যদিও এর প্রভাব নেজার্ন টিড লর (টিআইডিএলওআর) ও মুয়াংথাই ক্যাপিটালের (এমটিসি) জন্য সীমিত হবে। কারণ তাদের ভাড়া-ক্রয় পোর্টফোলিও প্রায় ৪০ শতাংশের শ্রীসাওয়াদ করপোরেশনের তুলনায় কম। টিআইডিএলওআর ও এমটিসি ক্রয় পোর্টফোলিওর পরিমাণ যথাক্রমে ১০ ও ৫ শতাংশ। দেশটির ব্রোকারেজ অবশ্য টিআইডিএলওআরে বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটিতে এমটিসির তুলনায় বেশি স্থায়ী সম্পদের ভিত রয়েছে।