চলতি মাসের শেষার্ধে পঞ্চগড়ে উদ্বোধনের কথা ছিল দেশের তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র। শতভাগ অনলাইনভিত্তিক দেশের প্রথম এ চা নিলাম কেন্দ্রটির আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শেষ হলেও পিছিয়ে গেল উদ্বোধন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘরে বসে নিলামে চা ক্রয়ের এ কার্যক্রম চালু করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ দেশের সার্বিক চা খাতে বড় অবদান রাখছে। প্রতি বছর নতুন নতুন চাষাধীন জমির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং চা উৎপাদন বৃদ্ধিতে উত্তরাঞ্চলকে ঘিরে মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত চা চট্টগ্রাম কিংবা শ্রীমঙ্গলে নিয়ে বিক্রির পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে নিলাম কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রির পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এজন্য সব প্রস্তুতি শেষ করলেও নতুন এ নিলাম কেন্দ্রের উদ্বোধন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে উদ্বোধন পিছিয়ে দেয়া হলেও আগস্ট শোকের মাস হওয়ায় সেপ্টেম্বরে নিলাম কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পঞ্চগড়ে ব্যবসায়ীবান্ধব, আধুনিক ও স্মার্ট অনলাইন টি অকশন সিস্টেম চালু করতে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘অনলাইন টি অকশন সিস্টেম’ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। সর্বশেষ ১৯ জুলাই এ-সংক্রান্ত একটি সফটওয়্যার ডেমো প্রদর্শন করা হয়। চট্টগ্রাম চা বোর্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের চা বাগান মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্রোকার্স প্রতিনিধিরা।
জানতে চাইলে স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যান্ড টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক খোকন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চা নিলাম অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের এখানে অনলাইন নিলাম শতভাগ বাস্তবায়ন করা যায়নি। চট্টগ্রাম নিলামের একটি অংশ অনলাইনে অনুষ্ঠিত হলেও সেটি এখনো সফলতার মুখ দেখেনি। পঞ্চগড়ের নিলামটি শতভাগ অনলাইনে চালু করতে বাগান মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্রোকার্স প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন। জুলাইয়ে উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুগান্তকারী এ কার্যক্রম চালু করা হবে।’
অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ে উদ্বোধন পিছিয়ে যাওয়ায় আগস্টে উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু ওই মাস জাতীয় শোকের মাস হওয়ায় সেপ্টেম্বরে অনলাইন চা নিলাম শুরুর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ে ৩০-৪০ জন চা ক্রেতা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান থাকলেও সারা দেশের ব্যবসায়ীরা নিবন্ধনের মাধ্যমে অনলাইনে চা ক্রয় করার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে নিলাম শুরুর ১৪ দিন আগেই ক্রেতাদের কাছে চায়ের স্যাম্পল, চায়ের দর ও নিলাম শিট পৌঁছে দেবে ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। যাচাই-বাছাই শেষে সিরিয়াল নাম্বার অনুযায়ী অনলাইনে নিলামের ডাক এলেই ক্রেতারা দাম দিতে পারবেন। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত চা ক্রয়ের সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে উৎপাদিত চা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান উভয়ের অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন উত্তরবঙ্গের চা উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা।
চা বোর্ডের তথ্য পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০২২ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ১৬২ কেজি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৪৮ লাখ ১ হাজার ১০৩ কেজি উৎপাদন হয়েছে মৌলভীবাজারে, যা মোট বার্ষিক উৎপাদনের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সিলেট, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামকে ছাপিয়ে ২০২২ সালে চা উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পঞ্চগড়। ২০২২ সালে পঞ্চগড়ে চা উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৮১ হাজার ৯৩৮ কেজি বা ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা হবিগঞ্জ জেলার উৎপাদন ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৭২ কেজি (১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ), চট্টগ্রাম জেলায় ১ কোটি ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৪ কেজি (১১ দশমিক ৮০ শতাংশ), রাঙামাটি জেলায় ৫৯ হাজার ১০৫ কেজি (শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ) ও বান্দরবান জেলায় উৎপাদন হয়েছে ৭ হাজার ২৮৪ কেজি (শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ)।










