দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে। গত বুধবার বাড়লেও একদিনের ব্যবধানে শুক্রবার আবারো কমে যায় পণ্যটির দাম। এদিন বন্দরে পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানান, মাসের শুরুতে আমদানি বাড়ায় পণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী দাম কমতে থাকে। কিন্তু লোকসানের আশঙ্কায় আমদানি কমিয়ে দেন আমদানিকারকরা। এতে আবারো পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বন্দরে আটকে থাকা পেঁয়াজের মান নষ্ট হয়ে যায়। এর জেরে মঙ্গলবার দাম কমে যায়। কিন্তু বুধবার ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে দাম আবারো বেড়ে যায়। এদিকে বন্দর দিয়ে আগের তুলনায় পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। ফলে আবারো কমেছে পণ্যটির দাম।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে বেড়েছে। বর্তমানে ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। ফলে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করেছে। বুধবার বন্দরে প্রতি কেজি ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কমে ২৪-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ২৯ টাকা থেকে কমে ২৭-২৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে দাম কমায় আবারো লোকসানের আশঙ্কা করছেন আমদানিকারকরা। ফলে তারা বন্দর থেকে পেঁয়াজ খালাস করে নিজস্ব গুদামে মজুদ করছেন বলে জানা গেছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ও রবিউল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ভারত থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি করে দেশের বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিলেন আমদানিকারকরা। এছাড়া কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ভিজে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এসব কারণে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছিলেন তারা। দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তির দিকে ছিল। তবে বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকায় আমদানি আবারো বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্দর দিয়ে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে ১৫-২০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩০-৩৫ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদিনে বন্দর দিয়ে ৬৮টি ট্রাকে ১ হাজার ৮৬৬ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ায় দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে পণ্যটির পাইকারি দাম আবারো কমেছে। তবে বৃষ্টির প্রভাব এখনো কাটেনি।