বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) উৎপাদন খাতে চীনের ভর্তুকির বিষয়ে তদন্ত করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া আরোপিত শুল্ক হার বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। এমন সময় চীন থেকে ইভি আমদানিতে আরোপিত শুল্ক কমাতে ব্রাসেলসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্সিডিজ বেঞ্জের প্রধান ওলা ক্যালেনিয়াস। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
জার্মানির গাড়ি নির্মাতা কোম্পানির প্রধান ওলা ক্যালেনিয়াস জানান, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি তৈরিতে চীন বর্তমানে অন্যতম প্রতিযোগী। দেশটির সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ইউরোপের নির্মাতারা দীর্ঘমেয়াদে ভালো গাড়ি তৈরি করতে পারবে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শুল্ক হার বাড়াবেন না। আমি এর বিপরীতে। আমি মনে করি, আরোপিত শুল্ক হার আরো কমিয়ে আনা উচিত। স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই চীনা কোম্পানিগুলো ইউরোপে রফতানি বাড়াতে চাইছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য উন্নত পণ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এটাই বাজার অর্থনীতি। প্রতিযোগিতা করেই এখানে টিকে থাকতে হবে।’
চীনা গাড়ি নির্মাতারা বেইজিং থেকে ভর্তুকি পাচ্ছে কিনা সেটি তদন্ত করছে কমিশন। এ ভর্তুকির মাধ্যমে কোম্পানিগুলো কম দামে ইউরোপে গাড়ি রফতানি করতে পারছে, যা অঞ্চলটির অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করছে।
স্টেলান্টিস ও রেনোঁর মতো ফরাসি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো চীনে কার্যক্রম পরিচালনা না করলেও, চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছে। তবে জার্মানির একটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিক্রি ও মুনাফার দিক থেকে চীনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়।
জার্মানির বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা কোম্পানির মুখপাত্রদের আশঙ্কা, তারা চীন ও বেইজিংয়ের গ্রাহক হারাতে পারে। কেননা বিওয়াইডির মতো কোম্পানি বর্তমানে পশ্চিমা কোম্পানির দখলে থাকা ইভির বাজারে অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে এবং আরো অগ্রসর হচ্ছে।
ওলা ক্যালেনিয়াস বলেন, ‘আমরা তদন্তের আহ্বান জানাইনি। কোম্পানি হিসেবে আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তাও চাইনি। আমার বিশ্বাস চীনের কোম্পানিগুলোও নিরাপত্তা চায় না। তারা বাকিদের মতো বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে চায়।’
চীন থেকে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ইউরোপে আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। অন্যদিকে চীনে রফতানির জন্য ইউরোপের নির্মাতাদের ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। যে কারণে চীনের বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ জার্মান মডেল সেখানেই নির্মিত।
ওলা ক্যালেনিয়াস বলেন, ‘একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড”তৈরি হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে উভয় পক্ষই যেন লাভবান হয় এমন পরিবেশ তৈরিতে সচেতন হতে হবে।’
জার্মান প্রতিযোগীদের তুলনায় চীনের বাজারে সেভাবে ব্যবসা করতে পারেনি স্টেলান্টিস ও রেনাল্ট। এর মধ্যে ফ্রান্স সরকার চীনের কোম্পানির বিপরীতে নিজেদের উৎপাদন ও বাজার বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবছে।
স্টেলান্টিসের প্রধান নির্বাহী কার্লোস টাভারেস গত বছর এক সতর্কবার্তায় ইউরোপ অঞ্চলের গাড়ি নির্মাণ শিল্প ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান। এ খাতে কর্মরত ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি ইউরোপিয়ান চীনা কোম্পানির প্রভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান। উদাহরণ হিসেবে তিনি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল খাতের কথাটি উল্লেখ করেন।










