সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জিডিপি ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সংকলিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। 

২০২৩ সালে অঞ্চলটির জিডিপির পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। খবর অ্যারাবিয়ান নিউজ।

ওপেকপ্লাস উৎপাদন কোটার কারণে স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধি সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইউএই উচ্চতর রেফারেন্স কোটা ২০২৪ সালে এ সীমাবদ্ধতাগুলোকে আরো কমিয়ে আনবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে ইউএইর জ্বালানি তেল উৎপাদনের পরিমাণ ৩২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কম।

যা হোক, ইউএইর জ্বালানি তেল উত্তোলন ওপেকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। দেশটি দিনে ৩২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উত্তোলন করছে। ২০২৪ সালে দৈনিক গড় ‍উত্তোলন ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হবে এবং ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও এ উত্তোলনের পরিমাণ ইউএইর সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৪৫ লাখ ব্যারেলের নিচে রয়েছে।

ইউএই তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সক্রিয়ভাবে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাত সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি দেশটি ১৫০ কোটি ডলার মূল্যের বন্ড বিক্রি করেছে, যা তাদের জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের সম্প্রসারণকে শক্তিশালী করেছে।

জানুয়ারিতে ব্রিকস ব্লকে দেশটির আসন্ন একীভূতকরণ একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার কারণে ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং এর বৈচিত্র্য ও বৃদ্ধির কৌশলও বাড়াবে। এক্ষেত্রে লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতগুলো সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএইর জ্বালানি তেলবহির্ভূত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৪ সালে মাঝারিভাবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা এ বছরের ৫ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় কিছুটা কম।

দেশটির জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এর পেছনে প্রাথমিকভাবে তেলবহির্ভূত খাতের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটি পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ৫৭ দশমিক ৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা কভিডকালের পর সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

চলতি বছরে ইউএইর ঋণ নেয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ইউএইর আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। মধ্যমেয়াদে জিডিপির ৫ শতাংশের ওপরে অনুমানকৃত রাজস্ব উদ্বৃত্ত রয়েছে।

২০২২ সালে রাজস্ব উদ্বৃত্ত জিডিপির ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এটা কাতারের পরে এ অঞ্চলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।