সরবরাহ সংকটের শঙ্কা, বিশ্বের অন্যতম আমদানিকারক দেশ চীনের চাহিদা কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় সুদহার বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। খবর রয়টার্স।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৫০ সেন্ট বা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দশমিক ৬ শতাংশ বা ৫২ সেন্ট বেড়ে প্রতি ব্যারেলের মূল্য ৮৮ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।

৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বা মজুদ ৮৪ লাখ ব্যারেল কমে ৪৩ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। ১৯৮৪ সালের অক্টোবরের পর যা সর্বনিম্ন। সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রকাশিত উপাত্ত সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে।

জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগামী ছয় মাসে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানিয়েছিলেন, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলেছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপের তথ্যানুযায়ী, টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা প্রায় দুই লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি চলে এসেছে।

এক নোটে বারক্লেসের জ্বালানিবিষয়ক গবেষক অমরপ্রীত সিং বলেন, জ্বালানি তেলের চাহিদায় উল্লেখযোগ্য অবনমন হলেও দাম নির্ধারণের বিষয়ে আমরা আশাবাদী। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যেমন আশা করা হয়েছিল জ্বালানি তেলের সরবরাহ তার থেকেও কম এবং এর সঙ্গে ওপেক প্লাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিমাদের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির বিষয়টি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। এদিকে ২০১৫ সালের চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তেহরানের কাছ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জার্মানি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন জানান, অদূর ভবিষ্যতে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।

বিশ্বে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি মূল্য থেকে মূলধন আদায়ের বিষয়টি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কেননা জ্বালানি তেল ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা দেশ চীন এখন কভিড-১৮ মহামারীসংক্রান্ত বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে। শরতের ছুটিতে চীনে পর্যটকদের ভ্রমণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অফিশিয়াল তথ্যসূত্রে এটি জানা গিয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তার কারণে মানুষের মধ্যে ভ্রমণের আগ্রহ কমে গিয়েছে।