২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও নেতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। অনেক অধিবাসী দেশ ছেড়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরাও পশ্চিমা চাপের মুখে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভাগনার গ্রুপের বিদ্রোহ নতুন প্রভাব বিস্তার করে রাশিয়ায়। চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। সম্প্রতি দেশটির বাজার চালু হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আমেরিকান বন্ড কিংবা ডলারের মতো নিরাপদ কারেন্সিতে তাদের বিনিয়োগ যুক্ত করার কথা ভাবছেন।
ওয়াগনার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভগেনি প্রিগোজিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাবেক মিত্র। পূর্ব ইউক্রেনের বাখমুতে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তার বাহিনী। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই অস্ত্র সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ তুলে রাশিয়ার সামরিক নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি।
গত শনিবার প্রিগোজিন বিদ্রোহ ঘোষণা করে বাহিনী নিয়ে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো অভিমুখে যাত্রা করেন। দখল নেন রাশিয়ার কয়েকটি শহর ও সামরিক স্থাপনার। পরে বেলারুশের মধ্যস্থতায় অভিযান বন্ধে রাজি হন তিনি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু পর বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজার অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ায় অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
রাশিয়ায় ভাগনারের বিদ্রোহের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বেশ কয়েকজন বিনিয়োগকারী বলেন, ‘তাদের উদ্বেগের কারণ রাশিয়া বিশ্ববাজারে প্রধান জ্বালানি শক্তি সরবরাহক দেশ। তাই তারা মার্কিন ট্রেজারির মতো সেফ হ্যাভেনের দিকে মনোনিবেশ করছেন।’
নিউইয়র্কের টিডি সিকিউরিটিজের ইউএস রেট স্ট্র্যাটেজির প্রধান গেনাদি গোল্ডবার্গ বলেন, ‘দুয়েকদিনের মধ্যে কী ঘটবে তা অবশ্যই দেখা বাকি আছে, তবে রাশিয়ায় নেতৃত্ব ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন।’
বিদ্রোহ পরিস্থিতির অবনতি হওয়া সত্ত্বেও সামগ্রিক বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের বিচলিত করে তুলেছে। ফলে তারা সতর্ক দৃষ্টি বজায় রাখতে পারেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ঘটনায় রাশিয়ার পারমাণবিক মজুদ ওয়াশিংটনের পুরনো ভয়কেও পুনরুজ্জীবিত করে।
এলপিএল ফাইন্যান্সিয়ালের চিফ গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস্ট কুইন্সি ক্রসবি বলেন, ‘বাজারগুলো সাধারণত উন্মোচিত ও অনিশ্চিত বিষয়ের বিপরীতে খুব একটা ভালো সাড়া দেয় না, বিশেষ করে ওই ঘটনাগুলো যদি পুতিন ও রাশিয়া সম্পর্কিত হয়।’










