বিশ্ববাজারে আকরিক লোহা সরবরাহ অব্যাহত হারে বাড়ছে। কিন্তু সে তুলনায় ধাতুটির চাহিদা বাড়ার গতি ধীর। আগামী পাঁচ বছর সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে এমন ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে এ সময় ধাতুটির বাজারদর নিম্নমুখী থাকবে। খবর মাইনিং ডটকম।
আকরিক লোহার বৈশ্বিক দাম গত বছর প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এর প্রধান কারণ চীনে চাহিদার অধঃপতন। মূলত কয়েক ধাপে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশটির অর্থনীতি তখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। নানা বিধিনিষেধ ও লকডাউনে আকরিক লোহা উত্তোলন, বিপণন ও ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তবে এ বছর বিশ্বের শীর্ষ ধাতব পণ্য ব্যবহারকারী দেশটি সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নিয়েছে। ফলে আকরিক লোহার বাজার ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কয়েক মাস ধরে ইস্পাত উৎপাদনের কাঁচামালটির দাম বাড়ছে। তবে দাম বাড়ার এ ধারা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফিচ সলিউশনের কান্ট্রি রিস্ক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ সম্প্রতি আকরিক লোহার বাজারদরসংক্রান্ত পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ২০২৩ সালে আকরিক লোহার গড় দাম থাকবে টনপ্রতি ১১০ ডলার। কিন্তু চলতি মাসে তা বাড়িয়ে ১২৫ ডলার করা হয়েছে। তবে ২০৩২ সালের মধ্যে ধাতুটির দাম টনপ্রতি ৫০ ডলারে নেমে যেতে পারে বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেয়া বিশ্লেষণে জানায়, লম্বা সময় ধরে চীনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল জিরো কভিড-১৯ নীতি ও রিয়েল এস্টেট খাতে সংস্কার। এ দুই সংকট থেকে দেশটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই স্বল্পমেয়াদে আকরিক লোহার বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের শীর্ষ আকরিক লোহার উৎপাদক দেশগুলোয় এ বছর উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে বলে প্রত্যাশা করছে ফিচ। এমনকি অনেক দেশে প্রান্তিকভিত্তিক উৎপাদনে ভালো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
২০২২ সালে আকরিক লোহার বৈশ্বিক চাহিদার ৫৭ শতাংশই তৈরি হয়েছে চীনে। তবে আগামীতে চাহিদা কমার আভাস মিলেছে। কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রয়াসই চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফিচ জানায়, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও আফ্রিকায় নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফলে এসব দেশ থেকে সরবরাহ আরো বাড়বে। সে হিসেবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বছরে আকরিক লোহার বৈশ্বিক সরবরাহ ৩ দশমিক ১ শতাংশ করে বাড়বে।










