বিদায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার কারখানাগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত বছরের মধ্যে চলতি ডিসেম্বরে রুশ কারখানাগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম বেড়ে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছে। তবে দেশটিতে দুই মাস ধরে রফতানির হার নিম্নমুখী রয়েছে। খবর রয়টার্স।

উৎপাদন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পারচেজিং ম্যানেজার ইনডেক্স (পিএমআই) অনুসারে ডিসেম্বরে রাশিয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম নভেম্বরের তুলনায় কয়েক শতাংশ বেড়েছে। নভেম্বরে দেশটির উৎপাদন কার্যক্রমের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ডিসেম্বরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালের পর থেকে রাশিয়ায় এটিই সর্বোচ্চ উৎপাদন কার্যক্রম। চলতি বছরের সাত মাসে উৎপাদন বেড়েছে আগের তুলনায় কয়েক গুণ। ফলে দেশটির কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশ বেড়েছে।

বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, কারখানাগুলোয় উৎপাদন বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তবে গত দুই মাসে রফতানির হার নিম্নমুখী থাকায় চিন্তায় পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা। মূলত গত জুলাই থেকে রফতানি বাজারে গ্রাহকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সংকটের মুখে পড়েছে দেশটি।

উল্লেখ্য, ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকজন ধনকুবেরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ডলার লেনদেন, বাণিজ্য, জ্বালানি রফতানি ও অর্থায়নের ওপর বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন রাশিয়াকে বৈশ্বিক বাজারের বাইরে ঠেলে দিতে চায়।

এসব মোকাবেলায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলার পর থেকে মস্কো অস্ত্র উৎপাদনে ব্যয় বাড়িয়েছে। ফলে দেশটির সামগ্রিক উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এছাড়া পশ্চিমা দেশগুলোর লাগাতার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাসহ উচ্চ মূল্যে পণ্য আমদানি এবং দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছিল দেশটি। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি বছর তারা অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

রুশ শ্রমবাজারে ঘাটতি রয়েছে। বেকারত্বের হার কমিয়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশে নিয়ে এসেছে সরকার। শ্রমবাজারে নতুন নতুন কাজ সৃষ্টিতে কাজ করছে দেশটির সরকার।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং আমদানীকৃত পণ্যের উচ্চ মূল্য, দুর্বল রুবল এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কারখানাগুলো কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। যদিও সমীক্ষায় দেখা গেছে মূল্যস্ফীতি কমেছে।