কভিড-১৯ মহামারীর ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি। এরই প্রমাণ মিলেছে সিঙ্গাপুরে। দেশটির বিভিন্ন খাতে বড় কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটিতে ৮৮ হাজার ৪০০ কর্মসংস্থান বেড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা কর্মসংস্থানে এগিয়ে। নির্মাণ, কারখানা, অর্থনৈতিক ও পেশাজীবী খাতে নিয়োগ বাড়ায় কর্মসংস্থানে এ গতি এসেছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
শ্রমবাজার সম্পর্কিত ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, দেশটিতে বসবাসকারী ও স্থায়ী বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের হার সবচেয়ে বেশি। এছাড়া সিঙ্গাপুরে বসবাসকারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার তলানিতে, ২ দশমিক ৮ শতাংশ।
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের বছরের তুলনায় গত বছর ছাঁটাই হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, ১৪ হাজার ৫৯০ জন। এদিকে চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা টানা ছয় প্রান্তিকে কমার পরে গত বছরের ডিসেম্বরে সামান্য বেড়েছে, যা ৭৯ হাজার ৮০০ হয়েছে।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, ছাঁটাইয়ের ছয় মাসের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থানে যোগ দেয়ার হার কমেছে। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ ছয় মাসের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থানে যোগ দিয়েছে। আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
বেকারত্বের বিপরীতে চাকরির শূন্যপদের অনুপাত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ১ দশমিক ৭৪-এ উন্নীত হয়েছে। এ হার ২০২১ সালের মার্চে ছিল দশমিক ৯৬। এ পরিসংখ্যান একটি মাঝারি ধরনের স্থিতিশীল শ্রমবাজারের বার্তা দেয়।
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চাকরির শূন্যপদ বেড়েছে। বেকারত্ব কমেছে। শ্রমবাজার মাঝারি ধরনের শক্তিশালী অবস্থানে। বেকার ব্যক্তিদের তুলনায় চাকরির শূন্যপদের অনুপাত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বেড়ে ১ দশমিক ৭৪ হয়েছে।"সব মিলিয়ে শ্রমবাজারের এ পরিস্থিতি ২০২৪ সালের জন্য উন্নত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অব পাবলিক পলিসির সহযোগী অধ্যাপক টেরেন্স হো এর আগে জানিয়েছিলেন, নতুন নতুন কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।










