জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গত দেড় বছরে প্লাস্টিক কারখানার ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি সামিম আহমেদ। আজ বুধবার (১৮ জুন) রাজধানীর বিপিজিএমইএ কার্যালয়ে প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এ শিল্পে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার কারখানা রয়েছে। গত দেড় বছরে তার ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে, অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে একটি গতানুগতিক ও হিসাববিদের বাজেট বলে উল্লেখ করেন সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, প্লাস্টিক শিল্প একটি প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্প। প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এটি ব্যবহার করছে। এটি কৃষিজ ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি একটি মাদার সেক্টর। কিন্তু সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতকে উপেক্ষিত করেছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এটি কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্লাস্টিকের তৈরি টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালী সামগ্রী উৎপাদন পর্যায়ে মূসকের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, এটি সংশোধন করে মূসক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া প্লাস্টিক শিল্পে কোনো বর্জ্য আসে না উল্লেখ করে রিসাইক্লিং খাতে প্লাস্টিকের অবদান তুলে ধরেন তিনি।
এনবিআরের নীতি (পলিসি) বিভাগকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বিপিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এনবিআরকে ভাগ করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তবে সেখানে পলিসি বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখতে হবে। ব্যবসায় যে সংকটগুলো আছে সেগুলো থেকে উত্তরণে পলিসি বিভাগ তাদের পলিসি করবে। আমাদের দাবি সরকার যে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেন এবং প্লাস্টিক খাতকে বিশেষ চোখে দেখে স্বীকৃতি দেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। পুরনো আদলে বাজেট করা হয়েছে। এটি দূরদর্শী বাজেট নয়, হিসাবরক্ষকের বাজেট। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবস্থা খুব ভালো না। বাজেটে তাদের বিকাশের জন্য কিছু রাখা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে ব্যাংক তারল্য সংকট রয়েছে, কিন্তু ব্যাংক সুদহার কমাচ্ছে না। এখন ১৪-১৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। এখানে ইন্টারেস্ট কমাতে হবে। এটি করতে না পারলে বিনিয়োগ আসবে সে আশা করা যাবে না।’
এ সময় বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন, সহ-সভাপতি এনামুল হক, পরিচালক নুর আলম আলম বাচ্চু, এটিএম সাঈদুর রহমান বুলবুল, আমান উল্লাহ, আব্দুল কাদের জিলানি ও সৈয়দ মো. নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।









