আবুধাবির জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের জিডিপি বছরের প্রথম নয় মাসে বেড়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করেছে। বিষয়টিকে আবুধাবির অর্থনীতিতে অব্যাহত সম্প্রসারণের প্রভাব হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
স্ট্যাটিসটিকস সেন্টার-আবুধাবি (এসসিএডি) সম্প্রতি জানায়, বিশ্বের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজারে ওঠানামা সত্ত্বেও জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবুধাবির জিডিপি বার্ষিক ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
আমিরাতের অর্থনীতি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৭ হাজার ৯০৯ কোটি ৯৯ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। যদিও জ্বালানি তেলের দাম বার্ষিক ১ শতাংশ কমেছে।
জ্বালানি তেলবহির্ভূত অর্থনীতি জুলাই-সেপ্টেম্বরের মধ্যে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে ব্যাপক কৌশল অবলম্বন করছে আবুধাবি।
প্রাথমিক তথ্যানুসারে, জ্বালানি তেলবহির্ভূত ব্যবসা বাড়ানোয় জিডিপিতে খাতটির অবদান ৫২ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
আবুধাবি ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান আহমেদ আল জাবি বলেন, ‘আবুধাবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিস্থাপকতার একটি বড় প্রমাণ। অঞ্চলটি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মার্কেট ও শিল্পকে প্রভাবিত করবে।’
সর্বশেষ পরিসংখ্যান দেশটির উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিকে আরো অগ্রসর হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। আবুধাবির অর্থনীতি ২০২২ সালে আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল, যা গত বছর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকা (এমইএনএ) অঞ্চলে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির হার রেকর্ড করেছে। দেশটির জিডিপি গত বছর ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন দিরহাম ছাড়িয়েছে।
এসসিএডি অনুসারে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিদেশী বিনিয়োগের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, যা গত বছর ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। মূল্যের দিক থেকে ৮৩ হাজার ১০০ কোটি দিরহাম ছাড়িয়ে গেছে।
আবুধাবি তার অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে এবং শিল্প, পর্যটন, বিমান চলাচল ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা বাড়াচ্ছে।
উৎপাদন কার্যক্রম চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ২ হাজার ৬৩০ কোটি দিরহামে পৌঁছেছে, যা এ সময়ের মধ্যে জ্বালানি তেলবহির্ভূত জিডিপিতে ১৭ শতাংশের বেশি ও সামগ্রিক জিডিপিতে ৯ শতাংশ অবদান রেখেছে।
গত বছর চালু হওয়া আবুধাবি ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজি এ প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ পরিকল্পনার অধীনে আমিরাত ছয়টি শিল্প প্রকল্পে ১০ হাজার কোটি দিরহাম বিনিয়োগ করেছে। ২০৩১ সালের মধ্যে দেশটির উৎপাদন খাত এ বিনিয়োগের দ্বিগুণ হবে। এছাড়া ১৩ হাজারের বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আমিরাতের জ্বালানি তেলবহির্ভূত রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে।










