বিশ্ববাজারে গমের দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ইউক্রেন বন্দরগামী জাহাজগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক টার্গেট হিসেবে বিবেচনার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। এর পরই দাম বাড়তে থাকে। খবর বিবিসি।

জাতিসংঘের এক চুক্তি থেকে সরে আসার পর এ পদক্ষেপ নিয়েছে মস্কো। চুক্তিতে কৃষ্ণ সাগরকে শস্য আমদানি-রফতানি জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত তিন রাতে রাশিয়া ওডেসার মতো শহরে ইউক্রেনের শস্য সংরক্ষণের স্থাপনায় বোমা বর্ষণ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলটি বিশ্বব্যাপী শস্য বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অঞ্চল থেকে শস্য আমদানি-রফতানিতে কোনো ব্যাঘাত বিশ্বব্যাপী খাদ্য সুরক্ষা ও পণ্যমূল্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। প্রধান শস্য রফতানিকারক হিসেবে ইউক্রেনের শস্য সুবিধাপ্রাপ্ত জায়গাগুলো রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বে অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরো ঘনীভূত করেছে। মূলত পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়, যখন মস্কো সতর্ক বার্তা দেয় ইউক্রেনের বন্দরগুলোয় যাওয়া যেকোনো জাহাজকে কিয়েভ শাসনের পক্ষে রয়েছে হিসেবে দেখা হবে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যাডাম হজ জানায়, রাশিয়া বেসামরিক জাহাজে আঘাত হানার পরিকল্পনা করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি সামনে আরো গুরুতর ও জটিল হতে পারে।

রাশিয়ার আগ্রাসী পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় স্টক এক্সচেঞ্জে গমের দাম প্রতি টনে ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ভুট্টার দামও ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর মার্কিন গমের দাম ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি শস্যবাজারে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রাশিয়ার এমন ঘোষণার ফলে ইউক্রেন থেকে ইথিওপিয়া, ইয়েমেন ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোয় গমের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এসব দেশ প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার টনেরও বেশি গম আমদানি করে। ইউক্রেন গত বছর বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অর্ধেকেরও বেশি গম শস্য সরবরাহ করেছিল। শস্য আমদানি-রফতানির বিঘ্নতা বিশ্বের বিভিন্ন অংশে খাদ্য প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী খাদ্যমূল্যের ওপর সুদূরপ্রসারি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, রাশিয়ার হুমকির কারণে কৃষ্ণসাগর থেকে সব জলবাহিত শস্যের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা রাশিয়ান ও ইউক্রেন উভয়েরই শস্য রফতানিকে প্রভাবিত করতে পারে। ইউক্রেনের এমপি ওলেক্সি গনচারেঙ্কো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও তুরস্ককে সামরিক বহরসহ শস্যবাহী জাহাজ রক্ষা ওডেসার মতো শহরগুলোয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। খাদ্যনিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর এটি গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সামরিক পদক্ষেপের ফলে গমের দাম বেড়েছে। শস্য জাহাজের চলাচলের বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব বিশ্বের দুর্বল জনগোষ্ঠী ও পণ্যবাজারের জন্য সুদূরপ্রসারি পরিণতি ডেকে আনতে পারে।