দক্ষিণ আমেরিকায় মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে ইস্পাতের ব্যবহার। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) এ অঞ্চলে ইস্পাতের ব্যবহার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ব্যবহার বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। মূলত অবকাঠামো নির্মাণ ও গাড়ি তৈরিসহ ইস্পাতনির্ভর খাতগুলো ঘুরে দাঁড়ানোয় ব্যবহারে এমন চাঙ্গাভাব তৈরি হয়েছে। লাতিন আমেরিকান স্টিল অ্যাসোসিয়েশন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
বছরের প্রথম পাঁচ মাসে আর্জেন্টিনায় ১০১ দশমিক ৩ শতাংশ, পেরুতে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ, ব্রাজিলে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ, কলম্বিয়ায় ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ, চিলিতে ২৫ দশমিক ৮ ও মেক্সিকোয় ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ইস্পাতের ব্যবহার বেড়েছে।
এদিকে ইস্পাতনির্ভর খাতগুলো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় কর্মসংস্থান তৈরিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্রাজিলের অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ১ লাখ ৭৮ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড সেনশাস জানায়, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে আর্জেন্টিনার অবকাঠামো নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি এসেছে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।
লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে জুনে ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
তবে মে থেকে জুনের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদন ২ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পায়।
ব্রাজিল ও মেক্সিকো উৎপাদন হ্রাসে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করে।
বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ অঞ্চলের পরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
এদিকে চলতি বছরের মে মাসে পরিশোধিত ইস্পাত রফতানি এপ্রিলের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
মে মাসে এ অঞ্চলের দেশগুলো সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টন পরিশোধিত ইস্পাত রফতানি করে।
রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি হ্রাস পেয়েছে আমদানি।
মে মাসে আমদানি ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়।
আমদানি ও রফতানিতে ভারসাম্য থাকায় ওই মাসে বাণিজ্য ঘাটতিও হ্রাস পায়।
এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে লাতিন আমেরিকায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের প্রথমার্ধে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনেও প্রবৃদ্ধি এসেছে।
এ সময় লাতিন আমেরিকার উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
২০১৯ সালের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।










