একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন, আরেকদিকে বিশ্বব্যাপী বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উত্থান, ব্যবসায়িক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর গণছাঁটাই, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক দুর্বিপাক। এসব কিছুরই নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মানসিক স্বাস্থ্যে। বিশেষ করে বৃহদায়তনের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ সংকট এখন প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে, যা অভিহিত হচ্ছে ‘বৈশ্বিক মানসিক সংকট’ হিসেবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের গ্রাফকে নিম্নমুখী করে তুলেছে কর্মীদের এ মানসিক সংকট। বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেশে দেশে ২০২৪ সালে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে বিষয়টির প্রভাব আরো প্রকট হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এর ওপর কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, কর্মীদের দৈহিক-মানসিক স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাবজনিত ঝুঁকি পর্যালোচনায় কাজ করছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল এসওএস। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রকাশিত রিস্ক আউটলুক রিপোর্ট ২০২৪-এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন এমন ৮০ শতাংশ সিনিয়র বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে বার্নআউট (শরীর ও মনের ক্লান্তি) পরবর্তী বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশ মনে করেন তাদের কোম্পানি এটি মোকাবেলায় সক্ষম।
২০২৪ সালে কোম্পানিগুলোকে যেসব সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে, এ প্রতিবেদনে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কর্মীদের প্রত্যাশার পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা।
ইন্টারন্যাশনাল এসওএসের গ্লোবাল সিকিউরিটি ডিরেক্টর স্যালি লেভেলিন বলেছেন, ‘২০২৪ সালে মোকাবেলা করার জন্য অনেক ঝুঁকি থাকবে। কারণ অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটাই এখন আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। চলমান সংকট কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিচালনাকে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং করে দিয়েছে। কভিডের পর থেকে ঝুঁকি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে একদল পেশাজীবী। দলটিই ব্যবসা-বাণিজ্যে বার্নআউটের ঝুঁকি দেখছে।’
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন হওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে কোম্পানিগুলোর ঝুঁকি আরো বাড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সংকটের সময়ে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজনে ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কভিড-১৯ মহামারী সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাত কমতে শুরু করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন এবং সেবা খাতে নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। এসবই কর্মীদের বার্নআউটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এ নিয়ে জরিপে অংশ নেয়া উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, পরবর্তী ১২ মাসের জন্য ঝুঁকির স্তরটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ। ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিগুলো বাড়তে থাকবে। মানসিক ও শারীরিক চাপ মহামারীর আগের চেয়ে ক্লান্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের যুগ শেষ হয়েছে। বরং কর্মীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন সহায়তা এবং পেশাগত স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় গুরুত্ব দিতে হবে।










