একদিকে পশুর লোম বা চামড়া ব্যবহারের নিষ্ঠুরতা, অন্যদিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কৃত্রিম পশম, যা মূলত প্লাস্টিক ছাড়া আর কিছুই নয়। এ দুই বিতর্কিত বিকল্পের বাইরে ভিন্ন সমাধান নিয়ে এসেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড বায়োফ্লাফ। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টার্টআপটি এখন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি করছে বিলাসবহুল পশমি কাপড়। বায়োফ্লাফ ‘সেভিয়ান’ ব্র্যান্ডের অধীনে মূলত দুই ধরনের পণ্য বাজারে এনেছে। এক. সেভিয়ান ন্যাচারালস; এতে শণ, তিসি ও বিছুটি গাছের আঁশ ব্যবহার করে পশমি কাপড় তৈরি করা হয়। দুই. সেভিয়ান সিল্কস; পণ্যটি তৈরি হয় রেশম তন্তু বা সিল্ক ফাইবার থেকে। যদিও সিল্ক উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতিতে রেশম পোকার গুটি সেদ্ধ করে সুতা সংগ্রহ করা হয়, যা প্রাণিকল্যাণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের কাছে উদ্বেগের বিষয়। তবে বায়োফ্লাফের দাবি, দুই ধরনের পণ্য উৎপাদনেই কোনো প্রাণীর ক্ষতি করা হয় না কিংবা কোনো সিন্থেটিক প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে বায়োফ্লাফ এখন বিশ্ব ফ্যাশন বাজারে একটি স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম পশম বা ‘ফক্স ফার’ মূলত পলিয়েস্টার ও অ্যাক্রিলিক দিয়ে তৈরি, যা পেট্রোলিয়ামজাত প্লাস্টিক। এ কাপড় ধোয়ার সময় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাইক্রোফাইবার নির্গত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে। বায়োফ্লাফ জানিয়েছে, এরই মধ্যে প্যারিসে কোম্পানিটি নিজেদের প্রথম শোরুম খুলেছে এবং সম্প্রতি বেশকিছু বড় ফ্যাশন শোয় সেভিয়ানের পোশাক দেখা গেছে। বর্তমানে বড় বড় ফ্যাশন হাউজ প্রাণিজ পশম ব্যবহার থেকে সরে আসছে, যা বায়োফ্লাফের মতো নতুন প্রজন্মের ব্র্যান্ডের জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। মূলত উদ্ভিদভিত্তিক পশম বা ফার সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। —খবর ওয়ান গ্রিন প্ল্যানেট

14