পরবর্তী ২০ বছরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রি বাড়বে। সর্বশেষ এক পূর্বাভাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্টটি জানায়, ২০৪২ নাগাদ তাদের বিক্রি ৮ ট্রিলিয়ন ডলার স্পর্শ করবে। একই সঙ্গে তারা কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি অধিকতর জ্বালানি সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ নির্মাণে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করে তারা। খবর রয়টার্স।

ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনভিত্তিক কোম্পানিটির পূর্বাভাস, ২০৪২ নাগাদ উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৪২ হাজার ৫৯৫ ইউনিট। গত বছরের পূর্বাভাসে সংখ্যাটি ছিল যেখানে ৪১ হাজার ১৭০। নতুন পূর্বাভাসে স্বাভাবিকভাবেই বেশিসংখ্যক উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রত্যাশা করছে তারা। সর্বশেষ পূর্বাভাসটি প্যারিস এয়ারশোর আগে রোববার প্রকাশিত হয়। যদিও তা ২০২১ সালের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। দুই বছর আগে মোট ৪৩ হাজার ৬১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রত্যাশা করেছিল সংস্থাটি। কেননা তখন রাশিয়ায় উড়োজাহাজের চাহিদার কথা বিবেচনা করেই পূর্বাভাসটি করা হয়।

বোয়িং মনে করে, সিঙ্গেল আইল জেটসহ ২০৪২ সাল নাগাদ ৭৩৭ ম্যাক্স কিংবা তাদের ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারবাস নির্মিত এ৩২০নিও মডেলের সরু কাঠামোর জেট উড়োজাহাজের চাহিদা ভবিষ্যৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যারেন হালস্ট বলেন, ‘‌উড়োজাহাজের চাহিদা মূলত কম দামের বাহক দ্বারা চালিত হবে, যা এ ধরনের বহরের আকার বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করবে।’

আশা করা হচ্ছে, ২০৪২ সাল নাগাদ সরবরাহ তালিকায় ৭ হাজার ৪৪০টি ওয়াইড বডি প্লেন, ১ হাজার ৮১০টি আঞ্চলিক জেট ও ৯২৫টি মালবাহী উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে অর্ধেকের মতো নতুন জেট উড়োজাহাজ দিয়ে মূলত পুরনো মডেলগুলোকে বদলে নেয়া হবে, বাকি অর্ধেক এয়ারলাইনসের বহর বাড়াবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে বোয়িং। সংস্থাটির মনে করে, আগামী ২০ বছরে বৈশ্বিক উড়োজাহাজের বহরের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে, যা ২০২২ সালের ২৪ হাজার ৫০০টি জেট থেকে ২০৪২ সালের মধ্যে ৪৮ হাজার ৬০০-তে পৌঁছবে। গত বছর বৈশ্বিক বহরের পূর্বাভাসে যদিও ২০৪১ সালে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৪৭০টি হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বোয়িংয়ের পূর্বাভাসে যাত্রী ট্রাফিক বৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে সামান্য বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে হালস্ট বলেন, ‘‌এয়ার কার্গো বাজার বর্তমানে খানিকটা স্বাভাবিক গতিতে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছে। আগামী ২০ বছরে শিল্পটি আনুমানিক ৩ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধিসহ ভবিষ্যতের চাহিদার জন্য অনুকূল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। ধারাবাহিকভাবে এয়ার কার্গো চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ক্রমেই স্থিতিস্থাপক চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে। যদিও চীনের উড়োজাহাজ চলাচল ২০২২ সালজুড়ে হতাশাজনক ছিল বলে উল্লেখ করেন হালস্ট। তবে তিনি চীনের বাজার নিয়ে বোয়িং আশাবাদী বলে জানান।

বুধবার নিজস্ব বাজার পূর্বাভাস প্রকাশ করে এয়ারবাস। এতে সরবরাহের প্রত্যাশিত পরিমাণ তুলে ধরা হয়।

ফরাসি উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, ২০৪২ সালের মধ্যে গ্রাহকদের নিকট ৪০ হাজার ৮৫০টি নতুন জেট হস্তান্তর করবে।