‘চায়ের গুণগত মান-উৎপাদন বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ হ্রাসে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আজ  মঙ্গলবার এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ চা বোর্ড। 

এতে সভাপতিত্ব করেন চা বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক, বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম শাহ আলম, অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাফওয়ান চৌধুরী, ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচএসএম জিয়াউল আহসান, ডানকান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান আহমেদ, ফিনলের সিইও এসএএ মাসরুরসহ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর ৫০ বছরে এ শিল্প অনেক এগিয়ে গেছে। ১৯৭০ সালে দেশে চায়ের উৎপাদন ছিল ৩১ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন কেজি। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ৮৬ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রেকর্ড ৯৬ দশমিক শূন্য ৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন করেছে, যা দেশের চা শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

সভায়  ‘উন্নয়নের পথনকশা: বাংলাদেশের চা শিল্প’ অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে চা উত্পাদন ১৪০ মিলিয়ন কেজিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাগান মালিকদের করণীয় নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। চায়ের গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চা প্রক্রিয়াজাত ফ্যাক্টরিগুলো আধুনিকায়ন, বাগানের ফ্যাক্টরিগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া উৎপাদন খরচ হ্রাসের জন্যে জলাধার নির্মাণ ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মাটির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, অধিক উৎপাদনশীল ক্লোন আবিষ্কারের পাশাপাশি তা দ্রুত মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন, চা শিল্পে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, শ্রমিক-কর্মচারী-ম্যানেজারদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।