দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে বেড়েছে ডালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের ডালের দাম গড়ে ৩ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ডালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। তবে দাম কমলেও বিক্রিতে মন্দা অবস্থা চলছে বলে দাবি করেন তারা।

গতকাল নিতাইগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, পাইকারিতে দেশী মসুর ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। একই ডাল এক সপ্তাহ আগে বেচাকেনা হয়েছিল ৮৮ টাকায়। সে হিসাবে এ ডালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ২ টাকা।

অন্যদিকে ভারতের দিল্লি সুপার ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি দরে। একই ডাল ১০-১২ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ১০৭ টাকায়।

সে হিসাবে এ প্রকার ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা। আর সিটি গ্রুপের আস্ত ডাল (বোল্ডার ডাল) বেচাকেনা হচ্ছে ৫২ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে বেচাকেনা হয়েছে ৪৮ টাকা দরে। সে হিসাবে এ প্রকার ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৪ টাকা।

এছাড়া সিটি গ্রুপের ভাঙা ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ৪৮ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ৪৬ টাকায়। অ্যাংকর ডাল বেচাকেনা হচ্ছে ৩২ টাকা কেজি দরে, যা ১০ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছে ৩০ টাকায়। ডাবলির দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে বেচাকেনা হচ্ছে ৩০ টাকা ৫০ পয়সা দরে।

তবে এসব ডালের বিপরীতে কমেছে মুগসহ অন্যান্য প্রকার ডালের দাম। এর মধ্যে মুগডালের দাম কেজিতে ৩ টাকা কমে প্রতি কেজি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চোনা বুট বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ৬১ কেজি দরে, যা ১০-১২ দিন আগেও বেচাকেনা হয়েছিল ৬৩ কেজি দরে। সে হিসাবে চোনা বুটের দাম কেজি কমেছে ২ টাকা। খেসারির দাম কেজিতে ১ টাকা কমে ৬৮ টাকা ও মাষকলাইয়ের দাম ১০ টাকা কমে বেচাকেনা হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশী মসুর ও ভারতের দিল্লি সুপার ডালের দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষে চাহিদার শীর্ষে রয়েছে আস্ত মুসর ডাল। তবে এবার শীত মৌসুম শুরুর দিকে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ডাল কোম্পানি কম ডাল আমদানি করেছে। এ কারণে সরবরাহ সংকটে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে নিতাইগঞ্জের ডাল ব্যবসায়ী নীল কমল সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবার শীত মৌসুমেও ডালের দাম বেড়েছে। তবে এ বছর সিটি গ্রুপের (বোল্ডার ডাল) আস্ত ডাল বাজারে সরবরাহ সংকট থাকার কারণে বেশি বেড়েছে। কারণ নিতাইগঞ্জসহ দেশের বাজারগুলোয় এ ডাল সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। কিন্তু মিল থেকে ডাল সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে বাজারে এ ডালের সংকট দেখা দিয়েছে।

নিতাইগঞ্জে আরেক ডাল ব্যবসায়ী বাসন্তি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহার মতে, শীতের সময় বাজারে সবজির দাম কম থাকে। এজন্য সাধারণ মানুষ সবজি বেশি কেনে। সে কারণে প্রতি বছর এ মৌসুমে ডাল বেচাকেনা কম থাকে। কিন্তু ডালের এ বেচাকেনার মন্দা