উৎপাদন ও জ্বালানি তেলের মূল্য দ্রুত কমায় আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে সৌদি কোম্পানি আরামকোর মুনাফা কমেছে। জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ১২১ বিলিয়ন বা ১২ হাজার ১০০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। খবর এপি।

আরামকো বলছে, কম উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও আরামকোর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মুনাফা ছিল ২০২৩ সালে। এর আগে ২০২২ সালে এ কোম্পানির মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৬১ বিলিয়ন বা ১৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। সে তুলনায় পরবর্তী বছরে মুনাফা কমার পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ।

এ প্রসঙ্গে আরামকো বলছে,"মূলত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নিম্নমূল্য ও বিক্রি কমে যায় ওই সময়। এছাড়া জ্বালানি তেল পরিশোধন ও রাসায়নিক উৎপাদন কার্যক্রমও ছিল শ্লথ।

মুনাফা কমলেও ২০২৩ সালে লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল বেশি। নথি অনুসারে, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে আরামকো তার স্টকহোল্ডারদের লভ্যাংশ বাড়িয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি।

২০২২ সালে আরামকোর সামগ্রিক আয় ছিল ৫৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। আর ২০২৩ সালে তা নেমে আসে ৪৪ হাজার কোটি ডলারে।

২০২২ সালে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ ডলার ওঠে। দাম বৃদ্ধির এ সুযোগ সৌদি আরবের আয় বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে ২০২৩ সালে ব্যারেলপ্রতি দাম ৮৫ ডলারে নেমে এলে উৎপাদন কমিয়ে দেয় আরামকো।

আরামকোর সিইও আমিন এইচ নাসের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও নগদ প্রবাহ এবং উচ্চ স্তরের মুনাফায় অবদান রেখেছে আরামকো।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি জানান, সৌদি আরবের নবায়নযোগ্য খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে শিগগিরই ঘোষণা দেবে আরামকো। সেই সঙ্গে চীনে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে কোম্পানিটি।

নাসের আরো বলেন, ‘জ্বালানি তেল খাতের আয় ব্যবহার করে সৌদি অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে রয়েছে আরামকোর।’

আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি অ্যারাবিয়ান অয়েল কোম্পানি নামে পরিচিত আরামকো দিনে ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন করে। উৎপাদন বাড়ানোর কথা থাকলেও সরকারি নির্দেশনার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

রাশিয়া ও ওপেক জোটভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে একযোগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে উৎপাদন কম রাখার চেষ্টা করছে সৌদি আরব।

অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও এনভিডিয়ার পর বাজারমূল্যে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সংস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় আরামকো। কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার।

সৌদি আরবের রয়েছে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় একটি মজুদ। একই সঙ্গে সবচেয়ে কম ব্যয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশও। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জ্বালানি তেল-বহির্ভূত খাতে মনোযোগ দিয়েছে সৌদি আরব।