(১) স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে দেখা যায়, একদল শিক্ষার্থী সবসময়ই প্রতিদিন শত বাধার মাঝেও অল্প-অল্প করে হলেও নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকে, ফলে পরীক্ষার সময়ে খুব বেশি চাপ নিতে হয় না। আগে থেকে নিয়মিত পড়াশোনার চর্চার কারণে পরীক্ষার আগেই সিলেবাস শেষ করে ফেলে আর পরীক্ষার ঠিক আগের দিনগুলোতে পঠিত বিষয়ের গুণগত মান বাড়াতে মনযোগী হয়ে উঠে। এতে সফলতার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এই সফলতা শুধু ভালো ফলাফল নয়, জীবনের পরবর্তীতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অপরপক্ষে অনেক শিক্ষার্থীই দেখা যায়, পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে দিনরাত এক করে পড়াশুনা করে থাকে, এতে পড়াশুনার গুণগত মানের চেয়ে সিলেবাস শেষ করা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। ফলে সফলতার সম্ভাবনা কমে যায়, এর প্রভাব অনেক সময় জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা যায়। তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়।
(২) এরপর পড়াশোনার পাঠ শেষ করেই ছুটে চলে সোনার হরিণ চাকরির পাওয়ার প্রত্যাশায়। অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি আগে থেকেই চাকরির জন্য আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিতে থাকে আবার অনেকেই পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তারপর চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। এখানে যারা পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির বাজারে হালচাল সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে, তারা আসলে ধীরে ধীরে পরিকল্পনা অনুযায়ী সামনের দিকে এগোতে থাকে। সফলতার সম্ভাবনাও এতে করে বাড়তে থাকে। অপরদিকে যারা পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে তারপর চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেয়ায় আগ্রহী, তাদের চাকরির জন্য অনেকটাই তরিঘরি করে প্রস্তুতি নিতে থাকে, তাদের অনেক সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সময়ের অভাবে নেয়া হয়ে উঠে না। চাকরির জীবন শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়ে হলে, এই শ্রেণির মানুষেরা হতাশ হয়ে পড়তে হয়। এই হতাশার ছাপ ছড়িয়ে পড়ে জীবনের সকল পর্যায়ে।
(৩) চাকরি জীবনেও লক্ষ্য করা যায়, এক শ্রেণির মানুষ চাকরিতে সব সময় তরিঘড়ি করে থাকে, ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে শুরু করে আর খুব দ্রুতই বস্তগত প্রত্যাশার ছবি আঁকতে থাকে। এই দ্রুত জাগ্রত প্রত্যাশা দ্রুত পূরণ না হলে, হতাশ হয়ে পড়ে, কাজে মনযোগ হারিয়ে ফেলে, ফলে প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আগেই অতি অল্প সময়ের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতে হতাশ হয়ে কাজের গুণগত খারাপ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এই শ্রেণির মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। অপরপ্রান্তে আরেক শ্রেণির মানুষ চাকরি জীবনে গতিময় ছন্দে কাজ করে চলে, বস্তুগত প্রত্যাশার চেয়ে কাজেই আনন্দ খুঁজে পায়, কাজে অনড় মনযোগ থাকে, এগোতে থাকে ধীরে ধীরে, বস্তগত প্রত্যাশা পূরণের দিকে। তরিঘড়ি না করায়, কাজের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানে সেই সকল শ্রেণির মানুষের উপর একটি সময় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
(৪) চারপাশের কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, আমরা দেখতে পাই যেই শ্রেণির মানুষেরা আগে থেকেই তার ভবিষ্যত নিয়ে ধীরে ধীরে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে থাকে, সবসময় বস্তগত প্রত্যাশা ও পুরস্কারে চেয়ে, নিজের সেরাটা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করে যায়, তাদের সফলতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়া সম্ভাবনা বেশি থাকে। সবকিছুর পরেও বলবো বিশ্বাস রাখতে হবে সৃষ্টিকর্তার উপর, হতে হবে ধীর ও স্থির, ধরতে হবে ধৈর্য আর করে যেতে হবে পরিশ্রম, প্রমাণ করতে হবে দক্ষতার। সফলতার প্রতিচ্ছবি শুধু বস্তগত নয়, অন্তর্গত শান্তি ও সুখ সফলতার সত্যিকারের রূপ।
লেখক: ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কো-অর্ডিনেটর, সিডিডি










