বিদেশী ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর নিজেদের নির্ভরশীলতা নিয়ে ইউরোপীয়রা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। বার্টেলসম্যান ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক আশঙ্কা করেন, ইউরোপের বাইরের কোনো পক্ষ চাইলে দূর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবাগুলো বন্ধ করে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর ইউরোপের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইউরোপীয়দের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে এ প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ ইউরোপীয় নাগরিকরা কী চায়, সে বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হলো নাগরিকদের এ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি পূরণে ইউরোপের সরকারগুলো, বিশেষ করে ইইউ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রায় প্রতিটি স্তরেই ইউরোপকে অন্য অর্থনীতির ওপর নির্ভর করতে হয়। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, মাইক্রোচিপের ক্ষেত্রে তাইওয়ান এবং বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে চীনের ওপর ইউরোপের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য। এ বাস্তবতায় প্রথম যে প্রশ্নটি সামনে আসে, তা হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির পুরো ব্যবস্থার কতটুকু ইইউর নিজস্ব ভূখণ্ডে তৈরি করা প্রয়োজন।
[ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক নিবন্ধে]
মার্টিন স্যান্ডবু: ইউরোপীয় অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক










