মালিহা মালেক কাদির দেশের শীর্ষস্থানীয় টেক স্টার্টআপ সহজ ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ করেছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বাংলাদেশে ফেরার আগে প্রায় এক যুগ তিনি আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত সব প্রতিষ্ঠান যেমন—মরগান স্ট্যানলি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, নকিয়া ও ভিস্তাপ্রিন্টের মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং ও টেকনোলজি-বিষয়ক কোম্পানিতে কাজ করেছেন। সম্প্রতি বণিক বার্তার সঙ্গে চলমান পরিস্থিতিতে সেবাধর্মী ব্যবসাগুলোর ক্ষেত্রে পরিবর্তন, করোনা-পরবর্তী প্রযুক্তি বিশ্ব, রাইড শেয়ারিং ও ফুড সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বাধাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুহিনা ফেরদৌস

বিজনেস ফিন্যান্সিং ইউকের শীর্ষ নারী স্টার্টআপ ফাউন্ডার তালিকায় স্বীকৃতি অর্জনের জন্য আপনাকে অভিনন্দন। এ ধরনের অর্জন নিঃসন্দেহে প্রেরণা জুগিয়েছে। 

বিজনেস ফিন্যান্স বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওয়েবসাইট বিজনেস ফিন্যান্সিং ইউকের এ তালিকায় নিজেকে দেখে আমি অবাক ও খানিকটা বিস্মিত। বিজনেস ফিন্যান্সিং ইউকের কয়েকটি ক্রাইটেরিয়া আছে, সেগুলোর সঙ্গে ওরা পাবলিক ইনফরমেশনের ওপর ভিত্তি করে তালিকাটি তৈরি করেছে। নিঃসন্দেহে বিষয়টি অনুপ্রেরণাদায়ক, কারণ সহজ ডটকমের কাজগুলো স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে একজন নারী হিসেবে আমি এ তালিকায় রয়েছি, বিষয়টি আমার নিজের কাছে ভালো লেগেছে। এটি নারীর ক্ষমতায়নকে উৎসাহিত করবে এবং আমাদের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম প্রসারের জন্য ভালো নিদর্শন। দেশের জন্যও ভালো ব্র্যান্ডিং এবং অবশ্যই সহজের টিমের যারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তাদের জন্যও একটা অর্জন এটি।

বাংলাদেশে কভিড পরিস্থিতি শুরুর দিকে মোটরসাইকেল রাইড অনেক কমে গিয়েছিল। এখন মোটামুটি সবকিছু খুলে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আপনাদের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে করোনার প্রভাব কতটা পড়েছে এবং ধাক্কাটা কীভাবে সামলাচ্ছেন? 

প্রভাব তো পড়েছে, কারণ কভিডের ফলে মানুষ আরো সাবধান হয়েছে। কভিড পরিস্থিতিতে রাইড শেয়ারিং বন্ধ ছিল। সহজ ডটকম অনলাইনে বাসের টিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। কভিডে বাস ভ্রমণও কমে গেছে। ফুড ডেলিভারি প্রসঙ্গে বলব, মানুষ এখন আরো বেশি সচেতন। অনলাইনে খাবার অর্ডার করছে কিন্তু আগের তুলনায় মানুষ এখন বেশি সচেতন। সবাই একটু ভয় পাচ্ছে। ডেলিভারিম্যানের স্বল্পতাও আছে। এসব বিবেচনায় ব্যবসায় ক্ষতি হয়েছে। আবার পুনরুদ্ধার হারও বেশ ভালো। লকডাউনের সময় তো সবই বন্ধ ছিল। তখন আমরা দৈনন্দিন বাজার ও ওষুধ সরবরাহ করেছি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমও প্রায় আগের মতো শুরু হচ্ছে। আমরা মনে করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে হয়তো আমাদের ব্যবসা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসবে। পুনরুদ্ধার হার বেশ ভালো। যদিও কঠিন এক পরিস্থিতি। আবার কিছু বিষয়ও আছে, যেমন বাসা থেকে কাজ করা, ব্যয়সাশ্রয়, আরো বেশি উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ইত্যাদি। আমরা যেমন হেলথ কেয়ার অ্যাপ চালু করেছি। বাসায় বসে ভিডিওকলের মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা যাবে। এমন কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করেছি। সার্বিকভাবে বলব, আমি ভীষণ ইতিবাচকভাবে চিন্তা করছি। কভিডের কারণে অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতে যত ক্ষতি হয়েছে, আমরা সবাই যেমনটা ভয় পেয়েছিলাম, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিন্তু ততটা ক্ষতি হয়নি। বিষয়টি বেশ ইতিবাচক এবং আমি ভীষণ আশাবাদী। 

 কভিড-পরবর্তী নিউ নরমালে সেবাধর্মী ব্যবসাগুলোর ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? এক্ষেত্রে কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেবেন?

কভিডের কারণে বিশ্বব্যাপী ডিজিটালাইজেশনের বিস্তারটা অনেক তাড়াতাড়ি হবে। ডিজিটালাইজেশন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ কভিড-পরবর্তী নিউ নরমালের সঙ্গে মানিয়ে নেবে, যা সত্যিই একটি সুখবর। আমি মনে করি, যেকোনো ইন্ডাস্ট্রিতেই ডিজিটালি কাজ করা, অনলাইনে কাজ করা বা অনলাইনে ডকুমেন্ট স্বাক্ষর করা, অনলাইনে যোগাযোগ করা এবং কাজ করার বিষয়টি শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি থাকবে যেহেতু সশরীরে উপস্থিত হয়ে মিটিং করার পরিমাণ কম গেছে। আমি এগুলো ইতিবাচকভাবেই দেখি, কারণ ডিজিটালাইজেশন যেকোনো শিল্পের বিকাশের জন্য জরুরি। এটি কিন্তু শুধু প্রযুক্তি শিল্পের জন্যই জরুরি—এমনটা নয়, সব শিল্পের জন্যই। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কাজ শুরু করলে যেমন তথ্য সংরক্ষণ, দক্ষতা অনেক বেড়ে যায়, তেমনি মানুষের উৎপাদন দক্ষতাও অনেক বৃদ্ধি পায়। কভিড আমাদের এভাবে কার্যসম্পাদনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। প্রতিটা কোম্পানিকে ডিজিটালাইজেশনের দিকে যেতে হবে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। যা তাদের উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয় করবে। আবারো বলছি, আমি এ বিষয়গুলোকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। নিউ নরমালে অনেক কাজই অনলাইনের মাধ্যমে করতে হবে, যেমন সরাসরি যোগাযোগ না করে অনলাইনে যোগাযোগ করা। এতে দেখা যাবে আগে যে কাজগুলো আমরা কাগজে-কলমে করতাম, সেগুলো ডিজিটালি করছি। একটি ছোট উদাহরণ দিচ্ছি। যেমন বাসা থেকে ডকুমেন্ট প্রিন্ট করা অনেক ঝামেলা। তাই বিভিন্ন নথিপত্র কাগজে প্রিন্টের বদলে অনলাইনে বসে রিভিউ করা। এটা কিন্তু সময় বাঁচিয়ে দেবে। দ্বিমত পোষণের কোনো সুযোগ নেই যে কভিডের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে, মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। কিন্তু এটা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাবই পড়বে।

 ধারণা করা হচ্ছে, করোনা-পরবর্তী বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভরতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাবে। করোনা-পরবর্তী বিশ্ব হবে প্রযুক্তি বিশ্ব। সেখানে প্রবেশের জন্য বা অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে কী করতে হবে বা কোন বিষয়গুলোর ওপর  গুরুত্ব বেশি  দিতে হবে বলে মনে করেন?

প্রথমত, ডিজিটাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা খুবই দরকার। যেমন করোনা ট্রেসার বিডি অ্যাপসের কাজগুলো আমরা ডিজিটালি করেছি, অর্থাৎ পুরো কাজটাই আমরা জুমের মাধ্যমে করেছি। অ্যাপটা তৈরিতে আমাদের সরকারের পাঁচটি বিভাগের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। সরকারের পাঁচটি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে একবারে কাজ করা এবং ছয় সপ্তাহের মধ্যে এ ধরনের একটা অ্যাপ তৈরি করা কিন্তু খুব কঠিন। জুমের মাধ্যমে আমরা কাজটি করতে পেরেছি বলে আমাদের যাতায়াত সময় বেঁচে গেছে, সবাই মিটিংয়ে সময়মতো এসেছেন। সুন্দরভাবে কাজটি হয়েছে। এভাবে কাজ করা কিন্তু সম্ভব। সরকার নিজেই এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এখন যেটা দরকার তা হচ্ছে প্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ সব জায়গায় ছড়িয়ে দেয়া। আমাদের দেশে যত শিক্ষার্থী রয়েছে, আমি মনে করি, একদম ছেলেবেলা থেকে তাদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের কোর্স আনা উচিত। বিশ্বের অনেক দেশে একদম ছোট বয়স থেকে ওদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আমাদের দেশের জন্যও বিষয়টি চালু করা খুব জরুরি। ছোট বয়স থেকেই শিশুদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের শিক্ষা দিতে হবে। এমনিতে সরকারের সব কাজে আগের তুলনায় এখন প্রযুক্তি বেশি ব্যবহূত হচ্ছে। এটাকে আরো বৃদ্ধি করতে হবে। বিচারকরাও কিন্তু অনলাইন ব্যবহার করে আদালতের বিচারকাজগুলো সম্পন্ন করছেন। যা দারুণ ব্যাপার। প্রযুক্তি ব্যবহারে জোরারোপের জন্য যথাযথ সময় এটি। তাছাড়া সরকারি কর্মচারীরা নিজেরা যখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তখন তারা কিন্তু এর প্রয়োজনকে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের উপকারিতা তারা এখন বুঝতে পারছেন এবং আমরা আশা করি, অন্যান্য শিল্পেও এর প্রতিফলন আসবে। সুতরাং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনটা আসবে। তাই এ-বিষয়ক প্রশিক্ষণটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাগুলোকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। ব্যক্তি খাতগুলো কিন্তু এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকারি খাতগুলোকে তাই এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রযুক্তিকে সাগ্রহে গ্রহণ করতে হবে। যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার দরকার হয়, কাজটি কিন্তু সহজেই সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পাদন করা যায় অথচ বেশির ভাগ কোম্পানিতেই হাতে কাজগুলো করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থাপনার জন্য ভালো ক্লাউড বেজড অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার পাওয়া যায়, সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য বেশি খরচও হয় না। হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে মার্কেটিংয়ের কাজগুলোও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনেকেই করে। আমরা সহজ ডটকমে যেমন মাইক্রোসফট টিমস ব্যবহার করি। এ রকম অনেক জিনিস আছে। যেমন ক্লাউডে ডকুমেন্ট রাখা এবং শেয়ার করে তা এডিট করা—এ বিষয়গুলোকে আমাদের মজ্জাগতভাবে গ্রহণ করতে হবে। যখন একটি কোম্পানি নিজের কর্মধারার ভেতরে প্রযুক্তি গ্রহণ করে এবং প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেয়, তখন কিন্তু এ মানুষগুলোর ভেতর থেকে আরো অনেক আইডিয়া আসে যে আচ্ছা, আমরা হয়তো এমন করলে কাস্টমারদের আরো ভালো সেবা দিতে পারব। সুতরাং নিজেদের এবং কর্মশক্তিকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 সরকারের আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে করোনা ট্রেসার বিডি অ্যাপস তৈরি করেছে সহজ। এটা থেকে কেমন সাড়া পেয়েছেন?

আমরা মোটামুটি ভালোই সাড়া পেয়েছি। বিশ্বের অনেক দেশেই এ অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তবে অ্যাপটা তখনই অনেক বেশি কার্যকরী যখন বহুসংখ্যক লোক এটা ব্যবহার করবে। কারণ আপনার আশেপাশে সবাই যদি এ অ্যাপ ব্যবহার না করে তখন এর কার্যকারিতা কমে যাবে। ধরুন, আমি অ্যাপটি ব্যবহার করছি কিন্তু আমার আশেপাশে কেউ এটি ব্যবহার করছে না, তখন আশেপাশে কার কভিড আছে তা অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে জানব? যেহেতু অ্যাপটি একটি ট্রেসিং অ্যাপ। তাই সবাই তা ব্যবহার করলে এটি তখন কার করোনা আছে তা চিহ্নিত করতে পারবে। অনেক বেশি লোক যখন অ্যাপটি ব্যবহার করবে তখন এটি অনেক বেশি কার্যকর হবে। সরকারের এখানে ভালো উদ্যোগ রয়েছে। আশা করি, আগামীতে সরকার অ্যাপটি প্রচলন করার জন্য আরো ভূমিকা রাখবে। কিছু দেশ অ্যাপটিকে ব্যাধতামূলক করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি চলে আসে, তাই বাংলাদেশের সরকার অ্যাপটিকে বাধ্যতামূলক করেনি। তবে আমি মনে করি, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আরো বেশি প্রচার-প্রচারণা চালানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে অ্যাপটি ব্যবহার করতে আরো বেশি উৎসাহিত করা হয় তাহলে এর গুণগত ফল আমরা আরো বেশি পাব।

 অ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেবা নেয়ার প্রচলন আমাদের এখানে বাড়ছে। তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের কাছে এক ধরনের চাহিদাও তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের অ্যাপগুলো কতটা গ্রাহক-বান্ধব?

আহামরি ইউজার ফ্রেন্ডলি বলব না, তবে খারাপ নয়। আমাদের দেশের এ খাতটাই নতুন। এখানে দক্ষতা উন্নয়ন করতে সময় লাগবে। সহজের সঙ্গে কাজ করার জন্য বিদেশ থেকেও কিন্তু আমরা পরামর্শক নিয়োগ করে থাকি। আমাদের দেশের মানবসম্পদ এ কাজে যত বেশি দক্ষ হবে, অ্যাপগুলো তত বেশি ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে। বিশ্বের অন্যান্য অ্যাপসের ইন্টারফেসের সঙ্গে আমাদের অ্যাপের তুলনা করলে আমি বলব, খারাপ না। কিন্তু আমরা যদি বিশ্বের বিলিয়ন ডলারের কোম্পানির তৈরি অ্যাপের সঙ্গে আমাদের দেশের অ্যাপের ইন্টারফেসের তুলনা করি তাহলে কিন্তু হবে না। দেখা যাচ্ছে ওরা দশ বছর ধরে বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ারের পেছনে কোটি কোটি অর্থ ব্যয় করে অ্যাপগুলো তৈরি করেছে। তাদের সঙ্গে আমরা আমাদের দেশের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে তুলনা করছি, যারা অনেক অল্প টাকায়, স্বল্প কর্মশক্তি দিয়ে অ্যাপগুলো তৈরি করছে। আমরা সবাই যে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছি, এটাই কিন্তু প্রমাণ করে যে আমাদের দেশেও সেরা কিছু লোক রয়েছে। আমাদের অ্যাপগুলোকে বিশ্বমানের অ্যাপের সঙ্গে তুলনা করার সময় এ বিষয়গুলোও চিন্তা করতে হবে। আমি মনে করি, মানুষ আমাদের গ্রহণ করছে এবং অ্যাপগুলোকে ভালোই ব্যবহার করছে। আমি এটাকে ভালো বলব। যত মানুষ এ ইন্ডাস্ট্রিতে আসবে, পরিধি যত বাড়বে, তখন দেখা যাবে আমাদের দেশের অ্যাপগুলো বিদেশী অ্যাপের চেয়ে অনেক ভালো করছে।

 আমাদের অ্যাপগুলো কিছুটা জটিল—এটাও কিন্তু শোনা যায়।

দুটো বিষয় আছে। একটা হলো আমাদের দেশের মানুষের বিদেশী ব্র্যান্ড প্রীতি। এক্ষেত্রে কিন্তু কাউকে বেশি দোষ দেয়া যাবে না। শুধু প্রযুক্তি নয়, বিদেশী ব্র্যান্ডগুলো তো গুণমানেও ভালো। ইমার্জিং মার্কেটে বিদেশী ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি এক ধরনের আস্থা থাকে। এ ধরনের দৃষ্টিকোণ থেকে যখন আমরা চিন্তা করি তখন মনে হয়, দেশী অ্যাপগুলো বোধহয় জটিল। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমাদের দেশের মানুষের প্রযুক্তি জ্ঞান কম। নির্দিষ্ট বয়সের কিছু মানুষ আছে, তারা কখনই এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করেনি। আমাদের দেশের বাজারে যে অ্যাপগুলো আছে, সেগুলো কিন্তু বিদেশী অ্যাপ স্টাডি করে বানানো। তাই ওদের অ্যাপগুলোর তুলনায় আমাদের অ্যাপগুলো যে জটিল—এ কথার সঙ্গে আমি সহমত নই। তবে হ্যাঁ, আমাদের অ্যাপগুলোকে আরো উন্নত করার সুযোগ আছে। সহজের অ্যাপগুলোও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে কিন্তু জটিল আমি বলব না। যারা বিদেশী ব্র্যান্ডগুলো ব্যবহার করে অভ্যস্ত, তাদের দেশী পণ্যের প্রতি এক ধরনের উদাসীনতা থাকে। আবার যারা আগে কখনো অ্যাপ ব্যবহার করেনি, প্রথমবার ব্যবহার করছে বলে তাদের কাছে জটিল লাগছে। এটা অ্যাপের সমস্যা নয়। বিষয়টাকে আমি এভাবে দেখি।

 রাইড শেয়ারিং বা ফুড সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বাধাগুলো কী বলে মনে করেন?

অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা প্রযুক্তিগতভাবে খানিকটা পিছিয়ে রয়েছি। শিক্ষার একটা বিষয় রয়েছে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। বিদেশে যেমন একটা নতুন কিছু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমার মনে হয় যে আমাদের দেশে এ অবস্থার কিছুটা উন্নতি করা সম্ভব। কভিড পরিস্থিতিতে দেখেন কত তাড়াতাড়ি আমরা সবাই জুম ব্যবহার করতে শিখে ফেললাম। রাইড শেয়ারিং আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমি বলব অফলাইনে যে রাইড শেয়ারিং চালু হয়েছে, এটা যাত্রীদের বোঝাপড়ার ভুল, তাদের সচেতনতার অভাব। অনলাইনে রাইড শেয়ারিং যেখানে নিরাপদ, সেখানে কেন আমরা অফলাইনে সেবাটা নেব? অফলাইন রাইড শেয়ারিংয়ে অনেকে দুর্ঘটনারও শিকার হচ্ছে। তখন আবার রাইড শেয়ারিংয়ের দোষ হচ্ছে। অথচ দুর্ঘটনা ঘটছে অফলাইন রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে। চালকদেরও বোঝাপড়ার ভুল আছে, তারা মনে করছেন অফলাইনে রাইড শেয়ার করাটা লাভজনক। বিষয়টি কিন্তু তা নয়। আমি যাত্রীদের সচেতনতার অভাবের বিষয়টিও উল্লেখ করব। যাত্রী যদি তার নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে অফলাইনে সেবা গ্রহণ না করে তাহলে চালকরাও নিরুৎসাহিত হবেন। সর্বোপরি আমি বলব, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার কারণে মানুষের প্রযুক্তিবিষয়ক বোঝাপড়াটা কম। এখানে আমাদের বড় একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ফুড ডেলিভারিতে যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে তা বলব না। তবে রাইড শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বোঝাপড়াটা আরো ভালো হওয়া উচিত।

 অনেকে কভিড পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন পণ্য বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। এটা কতটা সাসটেইনেবল?

আমি বলব না যে একেবারেই টেকসই নয়। তবে পণ্যের গুণগত মান নিয়ে অবশ্যই একটা উদ্বিগ্নতা আছে। ফেসবুক পেজে কেউ একটা পোস্ট দিল আর তা দেখে আমি একটা পণ্য কিনলাম কিন্তু ক্রয়ের পর আমি কিন্তু আর কোনো সেবা আশা করতে পারি না বা পণ্যটি ক্রয়ের পরে কোনো ঝামেলা হলে কিছু করার থাকে না। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নেই, প্রয়োজনীয় জনবল নেই, আইনসম্মতভাবেও কাজগুলো করা হচ্ছে না, এটা অর্থনীতির জন্যও ভালো নয়। এক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। ভোক্তা হিসেবে আমি মনে করি, এখানে আস্থার জায়গাটা বেশ নড়বড়ে। এ ধরনের প্লাটফর্ম থেকে হুটহাট কিছু ক্রয় করাটা উচিত নয়, বুঝে নিয়ে কেনা উচিত। তবে এর ভালো দিকটি হচ্ছে, মানুষের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ। সবাই ব্যবসা করতে চাইছে, কাজ করতে চাইছে। বিষয়টি ইতিবাচক। এটা যদি কোনোভাবে ট্যাক্স, ভ্যাটের আওতায় আনা যায়, তবে ভালো হবে। আনা উচিতও। সবাই যদি আইনসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা করে তাহলে কিন্তু খুব ভালো। কেননা এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে ভোক্তারা অভিযোগ করতে পারেন। তখন বিষয়টি একটি কার্যকরী প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে আসে।

 চীন, ভারত বা অন্যান্য দেশে আমরা দেখেছি ভোক্তা সুরক্ষায় উপযোগী ই-কমার্স নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে কোনো নীতি নেই।

এটা নীতিমালার বিষয় নয়। আমি একটা পণ্য বিক্রয় করব, আমার তো একটা কোম্পানি থাকতে হবে। লাইসেন্স, সার্টিফিকেট থাকতে হবে। ট্যাক্স-ভ্যাট দিতে হবে। যেকোনো দেশেই আইনটি আছে। এটা আলাদা করে ই-কর্মাস নীতিমালার ব্যাপার নয়। ফেসবুকের মাধ্যমে কিন্তু তা যাচাইও করা যায়। আমি বলতে চাইছি যে কর্তৃপক্ষদের এদের সঙ্গে কথা বলে ট্রেড লাইন্সেসসহ অন্যান্য বৈধ কাগজ যা যা থাকা প্রয়োজন, তার আওতায় আনতে হবে। কোম্পানির ঠিকানা থাকতে হবে। যাতে এদের খুঁজে পাওয়া যায় এবং ভোক্তা যদি কোনোভাবে প্রতারিত হয় তাহলে কোম্পানি-সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়। আর এজন্য আমি মনে করি যে নতুন কোনো নীতিমালার প্রয়োজন নেই। কারণ কোম্পানি নীতিমালার মধ্যে এগুলো আছে।

 আপনি বলেছেন কভিডের কারণে যতটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল দেশের অর্থনীতিতে, ততটা প্রভাব পড়েনি। কিন্তু আমরা দেখছি যে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। অনেকের আয় কমেছে। অনেকে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার কাছে জানতে চাইছি বাংলাদেশের বর্তমান বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে ব্যক্তি খাতগুলো কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?

কভিড ঘিরে আমার মন্তব্যটি ছিল মূলত আমাদের এ-সম্পর্কিত অনুমান এবং যা ঘটেছে তার ওপর ভিত্তি করে। কভিড যখন শুরু হয়, আমরা কিন্তু অনেক ভয় পেয়েছিলাম সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে। হয়তো রাস্তায় রাস্তায় হন্যে হয়ে অসহায় ক্ষুধার্ত লোকজন ঘুরে বেড়াবে কিংবা আরো খারাপ কোনো পরিণতির কথা ভেবে। অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছে। পোশাক খাতের শ্রমিক থেকে অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকরা এবং যারা দিন আনে দিন খায় তাদের ওপর প্রভাবটা অনেক বেশি পড়েছে, যা অস্বীকারের উপায় নেই। আমি মনে করি, কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য আমাদের দুটো বিষয়ের দিকে জোর দিতে হবে। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মানবসম্পদ। আমাদের কোনো তেল বা এ-জাতীয় প্রাকৃতিক সম্পদ নেই। আমাদের জনবল আছে। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে অনেক কিছু করা যায়। যেমন নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা। বিশ্বজুড়ে প্রশিক্ষিত নার্সদের চাহিদা রয়েছে। আমাদের অনেক তরুণ জনবল আছে, তাদেরকে আমরা গুরুত্বসহকারে প্রশিক্ষিত করে তুলি না কেন। বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) ইন্ডাস্ট্রিসহ অন্য অনেক শিল্পে বিভিন্ন ধরনের কাজ আছে। আমাদের এ জায়গাগুলোয় মনোযোগ দিতে হবে। যেমন শ্রমশক্তি রফতানির মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছি। এ রকম আরো অনেক খাত রয়েছে, যেখানে দেশের জন্য কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে বাইরের দেশে পাঠাতে পারি। বিদেশে কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন, তা যাচাই করে আমরা আমাদের দেশের মানুষদের চাকরিসহ সেখানে পাঠাতে পারি। বর্তমান যুগে কিন্তু মানুষ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসে উপার্জন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বব্যাপী ইঞ্জিনিয়ার, ডিজিটাল-মার্কেটিং এক্সপার্ট কিংবা সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে জড়িতদের ভীষণ চাহিদা রয়েছে। আপনি কিন্তু ঘরে বসে আমেরিকান কোনো কোম্পানির হয়ে কাজগুলো করতে পারেন। বাংলাদেশে এরই মধ্যে একটা বড় বাজার তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা ভালো করছি। এখানে আরো যেটা করা যেতে পারে যে এ মানুষগুলোকে আমরা খুব ভালোভাবে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে প্রশিক্ষিত করতে পারি, কম্পিউটার সায়েন্সের প্রোগ্রামগুলোর পরিধি বাড়াতে পারি। এটি করা অনেক সহজ। আজকাল অনলাইনে প্রচুর কোর্সও রয়েছে। সহজ ডটকমে আমরা আমাদের কর্মীদের এ অনলাইন কোর্সগুলো শেখাচ্ছি। এ কোর্সগুলো শিখে নিলে যে কেউ ফ্রিল্যান্সার ডটকমে গিয়ে নিজেই কাজ করতে পারেন। প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ বাইরে পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফিলিপাইনের মেয়েদের বিশ্বব্যাপী চাহিদা রয়েছে, কারণ তারা প্রশিক্ষিত। ওরা ভালো ইংরেজিও বলতে পারে। আমাদের দেশে ওই পর্যায়ে যারা রয়েছে, তাদেরকে যদি প্রশিক্ষিত করা হয়, বেসিক পড়াশোনা শেখানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ, যেমন গৃহপরিচারিকার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাহলে আমরা ফিলিপাইনের ওই বাজারটা ধরতে পারব। প্রথমত, বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে বিদেশের বাজারগুলো কী চায় তা দেখতে হবে এবং আমাদের মানবসম্পদকে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করে পাঠাতে হবে। দ্বিতীয়ত, শুধু শ্রমিক হিসাবে নয়, আরো বেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি হিসেবে পাঠাতে হবে। পাশাপাশি এই দক্ষ জনগোষ্ঠী যাতে দেশে থেকেও বিদেশের বাজারে কাজ করতে পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, অবশ্যই উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে হবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। এটা উদ্যোক্তাদের দেশ। সেক্ষেত্রে তাদেরকে আরো বেশি প্রশিক্ষিত করে বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।

 কভিড পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন খাতে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি বা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু পুরো সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রিতে কভিডের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এ খাতের জন্য সরকার কোনো প্রণোদনা দিয়েছে কিনা? সরকারের কাছ থেকে আপনারা কী ধরনের সহযোগিতা আশা করছেন?

আমরা এখনো কিছু পাইনি। কিন্তু আমি যতটুকু জানি, বিষয়টি নিয়ে সরকার আলোচনা করছে। আসলে এ কাজগুলোয় অনেক বেশি সময় লাগে। স্টার্টআপদের জন্য একটা তহবিল তৈরি করা হচ্ছে। সরকার কিন্তু চাইলেই অর্থ দিতে পারবে না, তাকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এখনো আমরা কোনো প্রতিশ্রুতির কথা শুনিনি, তবে আমরা জানি এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। সরকারের কাছ থেকে আমরা আশা করব স্টার্টআপকে বেড়ে ওঠার জন্য স্বাধীনতা দেবে। স্বাধীনতা মানে খারাপ সেবা দেয়ার সুযোগ করে দেয়া নয়। আমাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রয়েছে। আমরা কোনো সমস্যা করলে ওখানে অভিযোগ চলে যাবে। আমাদের ট্যাক্স, ভ্যাটের বিষয়গুলো নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়। শিল্প-কলকারখানার মতো করে স্টার্টআপের টেকনোলজির কাজটা কিন্তু হয় না। স্টার্টআপের বিষয়টা কিন্তু ভিন্ন। এখানে যদি সরকারের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়াটা বাড়ানো যেত তাহলে নীতিগুলো আরো একটু উন্নত হতো। তবে আমি এটা বলব যে সাধারণভাবে আমরা যতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি তা ভীষণ ইতিবাচক। বেশি নীতিমালা দিয়ে কঠোর করলে কিন্তু এ শিল্প বিকাশ লাভ করবে না। এটা অবশ্যই যে ভোক্তা সুরক্ষা জরুরি এবং তা আছে। সরকার যদি মনে করে কোথাও কোনো প্রতারণা বা দুর্নীতি হচ্ছে, তবে অবশ্যই এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তা না হলে গোটা ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া বলব, আমাদের ইন্টারনেট ব্যয়টা বেশি, এটি যদি কমানো যেত তাহলে আমাদের এ শিল্পের বিকাশ অনেক বেশি হতো।