বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি এখনো ক্রমাবনতির দিকে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির দিক থেকে পৃথিবীর প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম (প্রথম আলো, জুলাই ১১, ২০২০)। কবে এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এ মুহূর্তে কেউ সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। নানাজনে নানা কথা বলছে, যার হয়তো কোনো ভিত্তি নেই। কেউ বলছে ছয় মাস, এক বছর, দেড় বছর বা তারও বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ তো তিন-চার বছরও লাগতে পারে বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে শিগগিরই যে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, সেটা ধরেই নেয়া যায়। করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিভাগের গৃহীত কর্মকাণ্ডও খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রমকে ঋণাত্মকভাবেও দেখার অবকাশ নেই। এ প্রতিবেদনে সরকারের কার্যক্রমকে মূল্যায়নের কোনো প্রয়াস নেই। বরং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সে অর্থে সরকার, এখন জোর দিয়ে যে কথাটা বলার চেষ্টা করছে—‘আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতে’, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবারই অনুভূতি এখন সে রকমই। খুব তাড়াতাড়ি কোনো প্রতিষেধক টিকাও আসছে বলে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা তথা ওই ‘আপনার নিজের নিরাপত্তা নিজের হাতে’—এ দর্শনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের নির্দেশনাসহ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো মেনে চলাটাই কার্যকরী ও শ্রেয় ব্যবস্থা বলে বিবেচনা করা যায়।

সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে থাকতে পারে বলেও ৩২ দেশের ২৩৯ জন বিজ্ঞানী গবেষক নিশ্চিত করেছেন। তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিঠি লিখে এটা জানিয়েছেন। এতদিন জানা ছিল নভেল করোনাভাইরাস বড়জোর তিন ফুট বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। তাই তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধান বা নির্দেশনা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস বাতাসে ভেসে থাকতে পারে—এই নিশ্চিত সংবাদ নতুন করে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। এ অবস্থায় কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ বা মেনে চলার বিকল্প নেই এবং এটাই সর্বোত্কৃষ্ট পন্থা বলে মনে হচ্ছে। একই দিনে অনলাইন পত্রিকা জাগো নিউজও এ সংবাদ প্রকাশ করে। তাদের শিরোনাম ছিল আরো ভয়াবহ—‘আপনি ঘরে থেকেও করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন’। কেননা নভেল করোনাভাইরাস চরিত্র বদল করে ৩০ ফুট পর্যন্ত বাতাসে ভেসে থাকার সক্ষমতা অর্জন করেছে! নভেল করোনাভাইরাস বাতাসে ভাসতে পারার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় চলে এসেছে। আজ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সাড়ে তিন মাস পর এসেও মানুষ করোনাসংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বিষয়ে সচেতন নয় বা জানে না, সেটা ভাবার অবকাশ নেই। মানুষ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বা নির্দেশনা সম্পর্কে মোটামুটি ভালোভাবেই জানে বলে আমার নিশ্চিত বিশ্বাস। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে, মানুষ কেন নির্দেশনা মানছে না? আমার ধারণা, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আইন না মানার সংস্কৃতিই এজন্য মূলত দায়ী। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার বিষয়টির পাশাপাশি গার্মেন্ট ও অন্য শিল্প মালিকদের মুনাফার অত্যধিক লোভজনিত কারণ এবং গার্মেন্ট ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতেই হবে তেমন কার্যকলাপও এক্ষেত্রে উল্লেখ্য। জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ বাইরে আসছে। অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার প্রয়োজনে সরকারও নীতিগতভাবে অফিস-আদালত ও শিল্প-কলকারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং মানুষের চলাচল ও জনসমাগম ক্রমে বাড়ছে। এটা করোনার সংক্রমণ রোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যৌক্তিকতাকে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। আমেরিকার বেশ কয়েকটি স্টেটসহ আরো কিছু দেশ অর্থনৈতিক অবস্থার বিবেচনায় লকডাউন তুলে নিয়েছিল। সেখানে দ্বিতীয় দফা আবার করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকার বেশ কয়েকটি স্টেটে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে এবং আবার লকডাউনের কথা ভাবছে। কিন্তু আমাদের দেশের কার্যকর লকডাউনে যাওয়ার হয়তো আর সুযোগ নেই। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও অধিক হারে টেস্ট ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করাটাই আমাদের দেশের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কার্যকর কৌশল হতে পারে। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের যেমন সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি মানুষও সরকারি নির্দেশনা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মানছে না। মানুষ কেন করোনাসংশ্লিষ্ট নির্দেশনাবলি মানছে না, কতটা মানছে বা মানছে না, সেটা একটু দেখা যেতে পারে।

৬ জুলাই ছেলেসহ টোকিও স্কয়ার (জাপান গার্ডেন সিটি) গিয়েছিলাম। আসাদ এভিনিউ থেকে রিকশা নেব। তিনজন রিকশাওয়ালা দাঁড়ানো। কারো মাস্ক পরা নয়। থুতনির নিচে ঝোলানো। আবার বেশির ভাগের মাস্কগুলোও ঢিলা হয়ে গেছে। এমনিতেই নাকের নিচে নেমে যায়। ওরা জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবেন? বললাম যাব না। এরই মাঝে আরো দুটো রিকশা এল এবং তাদের মাস্কও ঝোলানো। একজনের মাস্কের অবস্থা কিছুটা ভালো লক্ষ করলাম। বলতেই যেতে রাজি হলেন। মধ্যবয়স্ক। তাকে বললাম, মাস্কটা ভালোভাবে পরেন। পরলেন। রিকশায় ওঠার ২-৩ মিনিটেই তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, ‘স্যার, আপনি একজন রিকশাওয়ালা দেখাতে পারবেন যে করোনায় মারা গেছে? আমাদের করোনা হয় না!’ অবাক হলাম রিকশাওয়ালার এ ধরনের মানসিকতা দেখে। বললাম, হবে না এর তো গ্যারান্টি নেই! সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

তার পরদিন করোনাকালে প্রথম সংসদ ভবন এলাকায় প্রতিদিন বিকালে হাঁটার অংশ হিসেবে হাঁটতে গিয়েছিলাম। দেখলাম সংসদ ভবনের সামনে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া যদিও অনেক কম! সংসদ ভবন এলাকার শোভাবর্ধনে পাম গাছগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেখলাম প্রচুর পাম গাছ মরে যাচ্ছে। কেন জানি না। খুব খারাপ লাগল। আবার এই কয় মাসে গাছগুলোর নিচ দিয়ে সবুজ ঘাসে ছেয়ে গেছে, যেখানে মানুষের পদভারে অন্য সময়ে ঘাসের চিহ্নও থাকত না! সেটা ভালো লাগল! আর বিস্ময়করভাবে লক্ষ করলাম ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি লোকের মুখে মাস্ক নেই। সব শ্রেণী ও বয়সের মানুষ। পরিবার, সন্তান নিয়েও এসেছে। বয়স্করাও গাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এসে নামছে। হয়তো কয়েক মাসের গৃহবন্দি দশা থেকে একটু মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেয়া, একটু স্বস্তির জন্য এসেছে। আগত দর্শনার্থীরা যেন করোনা আতঙ্কে মোটেও আতঙ্কিত নয়। নির্দেশনাও তাই কিছুই মানছে না অধিকাংশ দর্শনার্থী। যেন কোনো সমস্যাই নেই! মহামারী তো বড় ব্যাপার এবং আরো পরের বিষয়! জীবন যেন স্বাভাবিক! কিন্তু আসলেই কি তাই? গোটা দেশে করোনা সংক্রমণের এমন উচ্চহারের সময়ে সেটা ভাবার অবকাশ নেই!

আবার কয়েক দিন পর (১১ জুলাই) সাড়ে ১২টার দিকে টাউন হল বাজারে মাছ কিনতে গিয়েছিলাম। ভিড় এড়ানোর জন্য দেরিতে গিয়েছি। তার পরও বেশ ভিড়। গায়ে গায়ে স্পর্শ, ছোঁয়া লাগা, একটু-আধটু ধাক্কা। এড়িয়ে চলার উপায় নেই! শারীরিক দূরত্ব তো সম্ভবই নয়! মাছ দোকানিদের প্রায় ৭০ শতাংশের মুখে মাস্ক নেই। যাদের আছে তাদেরটাও প্রায়ই থুতনির নিচে ঝোলানো! আমি সত্যি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম! মনে হচ্ছিল এ কোথায় এলাম! রিকশাওয়ালার কথা মনে পড়ছিল! এ ঘটনাগুলো থেকে আমার কাছে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে যে ‘রিকশাওয়ালা বা শ্রমিকশ্রেণীর মানুষের বদ্ধমূল ধারণা তাদের করোনা হবে না! এই শ্রেণীর মানুষের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি যেমন গভীর, তেমনি সৃষ্টিকর্তার ওপর প্রগাঢ় বিশ্বাসও এক্ষেত্রে তারা করোনায় আক্রান্ত হবে না, সে রকম ধারণা জন্মাতে সহায়ক বলে মনে হয়। বিস্ময়করভাবে এটা সত্যও যে শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে করোনার সংক্রমণ কম। তাই হয়তো এই শ্রমিকশ্রেণীর মানুষের মধ্যে করোনা ভীতি নেই। তাই তারা মাস্ক ব্যবহার করে না এবং মানুষ জেনেও নির্দেশনা মানে না! কিন্তু আসলেই কি এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে? নেই। এগুলো আমাদের সাধারণ সচেতন নাগরিকদের অত্যন্ত আতঙ্কিত করে তোলে, যখন করোনা সংক্রমণের হার দেশে ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে! এগুলো দেখার কেউ নেই! সংক্রমণ কমারও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না! ঢাকার বাইরে অন্যান্য শহরেও প্রায় একই অবস্থা। কয়েকজন বন্ধুর কাছে খোঁজও নিয়েছি। সরকার-সিটি করপোরেশন বাজার, মার্কেট, ব্যাংক, বাস-রেল স্টেশনের মতো জনসমাগম স্থলগুলোর দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে পারেন। তাতে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ বিশাল এই ঢাকা মহানগরীর পূর্ব রাজাবাজার বা ওয়ারীর মতো বিন্দুসম জায়গায় লকডাউন বাস্তবায়নের চেয়ে বেশি কাজ হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

গত সপ্তাহে সারা বিশ্বে করোনা সংক্রমণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান দশম হলেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ যেন থমকে গেছে। ৬৯টি ল্যাবে করোনার টেস্ট হলেও সম্প্রতি সরকার টেস্টের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। এটা কেন করছে তা অজ্ঞাত। বিশেষজ্ঞরাও বিস্মিত! এ পর্যন্ত যতটা জানা যায়, দুটো কৌশল করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। কৌশল দুটি হচ্ছে (১) কঠোর ও কার্যকর লকডাউন ও অধিক হারে করোনার টেস্ট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া এবং (২) শিথিল লকডাউন ও ব্যাপক হারে করোনা টেস্ট ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা! আসলে এ দুটো কৌশলের কোনোটাই কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্যাপাসিটি আমাদের দেশের নেই। সত্যি বড়ই খারাপ সময়-ক্রান্তিকাল আমাদের। এ দুই কৌশলের বাইরে আরেকটি পদ্ধতির নিয়মমাফিক প্রয়োগের মাধ্যমে চীন অত্যন্ত সফলভাবে করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সেটি সবচেয়ে কম ব্যয়সাপেক্ষ। কিন্তু অনেকের জন্য ঝামেলা মনে হতে পারে। চীনের নাগরিকরা প্রতিদিন নিয়মিত চারবার গরম জলের ভাপ নেয়া, চারবার গরম জল দিয়ে গড়গড়া করা ও চারবার গরম চা পান করে করোনার সংক্রমণ বিস্ময়করভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অত্যন্ত ডিসিপ্লিনড না হলে এটা করা কঠিন। বাঙালির মতো বিশৃঙ্খল জাতির অধিকাংশের পক্ষে এটা হয়তো সম্ভব নয়, যখন শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর বিষয়টিই আমরা মেনে চলতে পারছি না বা মানাতে পারছি না! কিন্তু করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বা প্রতিরোধে এর চেয়ে কার্যকর উপায় আর আছে বলেও এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি! শিগশিগরই সফল কোনো ভ্যাকসিন পাওয়ারও আশা নেই।

করোনা প্রতিরোধে সরকার মনে হচ্ছে হাল ছেড়ে দিচ্ছে! অনেকেই  প্রশ্নটি তুলছে। লকডাউন নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সিদ্ধান্তহীনতা সাধারণ মানুষের এই সন্দেহকে আরো ঘনীভূত করে তুলছে। লকডাউনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কোথায় পৌঁছব আমরা? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি বিষয়গুলো দেখবেন? বিশেষজ্ঞদের মতামত নিন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওপর মানুষের আস্থা নেই! মানুষও মানছে না কিছুই। এটা হতে পারে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ করুন। এভাবে হাল ছাড়া যাবে না! আর একটা কথা, যা বর্তমানে সরকারও বলছে, ‘আপনার নিরাপত্তা আপনার কাছে!’ জনগণকে এটা মানতে হবে, তাহলে সরকার ও দেশকেও সহযোগিতা করা হবে! সুতরাং করোনা সংক্রমণসংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। জনগণকে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। জনসমাগম স্থল ও পাবলিক পরিবহন যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না। বাইরে বের হলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। সঠিকভাবে। এসব নির্দেশনাবলি কেউ না মানলে প্রয়োজনে আইনের প্রয়োগে কঠিন হতে হবে (যৌক্তিক জেল, জরিমানার ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে হবে)! ছয় মাস জেল, ১ লাখ টাকা জরিমানা—এ ধরনের অবাস্তব ও অপ্রয়োগযোগ্য বিধানাবলি বাতিল করে জরুরি প্রয়োগযোগ্য বিধান নির্দিষ্ট করতে হবে। সংক্রমণ আইনের বিধানাবলিও প্রয়োগ করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে করোনাসংশ্লিষ্ট জাতীয় কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা প্রয়োজন। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি। চিকিৎসা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সবাইকে আন্তরিকভাবে করোনাসংশ্লিষ্ট নির্দেশনা মেনে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। নিজে বাঁচুন। প্রিয়জন ও অন্যদের করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করুন! দায়িত্বশীল নাগরিকের পরিচয় দিন। দেশকে বাঁচান এ মহামারীর কবল থেকে! এটা এখন সবার নৈতিক দায়িত্ব!

 

ড. এস. এম. আলাউদ্দীন: উন্নয়ন গবেষক

smalauddin1964@gmail.com