গত শতাব্দীর শেষ দিকে শুরু হয় অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে অনেকটাই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা। কেননা এর সমালোচকদের দাবি যে এই বিশ্বায়ন মূলত পুঁজির বিশ্বায়ন। একচেটিয়া পুঁজির অবাধ চলাচল নির্বিঘ্ন করার জন্যই ‘ওয়াশিংটন ঐকমত্যে’র ভিত্তিতে পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো এই অর্থনৈতিক দাওয়াইয়ের ব্যবস্থা করেছিল। ফলে বিশ্বায়নের নব্য উদারতাবাদ তৃতীয় বিশ্বসহ অনেক দেশেই সংকট ত্বরান্বিত করেছিল। ফলে সংকটের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ পন্থার জমিন শক্ত হয়েছে এবং এখন বিশ্ব জনতুষ্টিমূলকতার নামে এক ধরনের নব্য ফ্যাসিবাদ প্রত্যক্ষ করছে। অথচ বিশ্বায়নের একটি অন্য ইতিবাচক তাত্পর্য থাকতে পারত যদি এটা পুঁজির না হয়ে মানবিক বিশ্বায়ন হতো। সে রকমই একটি মানবিক বিশ্বায়নের উদাহরণ সৃষ্টি করছে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা। তারা দেশে দেশে নিঃস্বার্থভাবে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিয়ে এক অনন্যসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সারা বিশ্ব যখন নভেল করোনাভাইরাস নামে প্রাণঘাতী সংক্রমণের ছোবলে বিপর্যস্ত, তখনো তারা কোথাও ওষুধ পাঠিয়ে আবার কোথাও চিকিৎসক পাঠিয়ে তাদের এ মানবিক ধারা অব্যাহত রেখেছে। আর সেটা সম্ভব হচ্ছে এ কারণেই যে তারা একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

১৯৫৯ সালে কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবের পর থেকেই সমাজতান্ত্রিক দেশটিকে শেষ করার মরিয়া চেষ্টা করে গেছে আমেরিকা; এখনো করছে। অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি রাখা হয়েছে। পশ্চিমের উন্নত ধনী দেশগুলোও সমাজতান্ত্রিক কিউবার বিরুদ্ধে সেই পদক্ষেপকেই কার্যত সমর্থন করেছে। বিপরীতে এই ভয়ংকর সংকটের মোকাবেলায় কিউবা দ্বিতীয়বার ভাবেনি। ৫২ জনের শক্তিশালী চিকিৎসক দল ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। হাভানা থেকে রওনা হওয়ার আগে এ দলের সদস্যদের দেখা গেছে ফিদেল কাস্ত্রোর ছবি হাতে; সঙ্গে ছিল কিউবা ও ইতালির জাতীয় পতাকা। কিউবা অবশ্য আগেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল অন্যতম ধনী ও শক্তিশালী দেশ ব্রিটেনের দিকেও। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়ায় যাত্রীবাহী জাহাজ এমএস ব্রেইমারকে যখন কোনো দেশ তাদের তটে ভিড়তে দিচ্ছিল না, তখন কিউবাই তাদের বন্দর খুলে দেয়। জাহাজটিতে এক হাজার যাত্রী ছিল। এসব যাত্রীর মধ্যে যারা সুস্থতা লাভ করেছে, তাদেরকে নিজে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর যারা এখনো দুর্বল তাদেরকে কিউবার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিজেদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে এ রকম স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার নজির কিউবা তৈরি করতে পেরেছে একটাই কারণে। কেননা তারা প্রচলিত পুঁজিবাদ আর সাম্রাজ্যবাদের দর্শনে বিশ্বাসী নয়। মানবমুক্তির দর্শনেই যে তাদের আস্থা।

অবশ্য কিউবা শুধু করোনার ক্ষেত্রেই যে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দিচ্ছে তা নয়। এর আগেও দেশে দেশে মানবিক বিপর্যয় ঘটলে তারা তাদের বিপ্লবী স্বাস্থ্যসেবা সেসব দেশে পৌঁছে দিয়েছে। ১৯৬৩ সালে কিউবা তার আন্তর্জাতিক মেডিকেল ব্রিগেড গঠন করে। তখন সদ্য ঔপনেবিশেক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়া আলজেরিয়ায় ৫৮ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠায় দেশটি। ১৯৯৮ সালে কিউবার সরকার এই সহায়তা দেয়ার কলেবর বৃদ্ধি করে। ওই বছরই শক্তিশালী হারিকেন জর্জ অ্যান্ড মিচ ক্যারিবিয়ান দেশগুলোয় আঘাত আনে। কিউবা তখন চিকিৎসাসেবা পাঠানোর প্রস্তাব করলে ডমিনিকান রিপাবলিক, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া, হাইতি ও বেলিজের মতো রাষ্ট্রগুলো সে প্রস্তাব গ্রহণ করে।  ১৯৯৮ সালে হাইতিতে কিউবা তার চিকিৎসাসেবা দেয়া শুরু করে। তারা হাইতির সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সকেও যৌথভাবে সহায়তা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ফরাসি সরকার তা প্রত্যাখ্যান করে। তারা অবশ্য ২০০৪ সালে হাইতিতে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে অন্য ধরনের দমনমূলক সহায়তার প্রচেষ্টা চালায়। ১৯৯৮ সাল থেকে কিউবা দেশটিতে ২ হাজার ৫০০ চিকিৎসক এবং পর্যাপ্ত ওষুধ পাঠিয়েছে।

২০০৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ক্যাটরিনা নামের একটি সাইক্লোন আঘাত হানে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানায়। তখন কিউবান সরকার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসক ও ৩৬ টন চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখনকার বুশ প্রশাসন এ প্রস্তাবের কোনো প্রত্যুত্তর দেয়নি। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৮০০ নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০০৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। ১৫ অক্টোবর কিউবা থেকে ২০০ জনের মতো জরুরিভিত্তিক চিকিৎসক এবং প্রচুর পরিমাণ চিকিৎসাসামগ্রী সেখানে পৌঁছে। কিছুদিনের মধ্যেই একটি হাসপাতাল তৈরি করার মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্বীপরাষ্ট্রটি সেখানে পাঠায়। যেহেতু পাকিস্তান মুসলিম রাষ্ট্র, সে বিবেচনায় কিউবার পাঠানো স্বাস্থ্যকর্মীদের ৪৪ শতাংশই ছিল নারী। প্রায় ছয় মাস ধরে সেখানে তিন হাজার কিউবান স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানো হয়।  সেখানকার নাগরিকরা কিউবানদের প্রতি এত আস্থা পোষণ করা শুরু করে যে অনেক পাকিস্তানি পারিবারিক কর্তা তাদের স্ত্রী ও মেয়েসন্তানদের চিকিৎসার ভার তাদের ওপর ছেড়ে দেন।

১৯৬৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে এক লাখের বেশি কিউবান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী ৯৭টি দেশে কাজ করেছেন। এসব দেশের অধিকাংশই লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার। ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২৫ হাজার কিউবান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ৬৮টি দেশে অবস্থান করছেন। পক্ষান্তরে ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২ হাজার ৪০ জন এবং ২০০৪ সালে ২ হাজার ২৯০ জন চিকিৎসক ও নার্স পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কর্মরত ছিলেন। আবার যেসব রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক থাকে, তাদেরকে কিউবা চিকিৎসার জন্য নিজ দেশে নিয়ে আসে। অনেকেরই সত্তরের দশকে ভিয়েতনামে মার্কিন নাপাম বোমায় আক্রান্ত কিম পাকের ছবিটি মনে থাকার কথা। এ শিশুটিকে কিন্তু কিউবায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১৯ হাজার বয়স্ক ও শিশুর চিকিৎসা দেয়া হয়েছিল। লাতিন আমেরিকান দেশ ভেনিজুয়েলায় ১৪ হাজার কিউবান চিকিৎসক স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। আরেকটি দেশ বলিভিয়ায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি তৈরি করতে বড় ধরনের সহায়তা জুগিয়েছে কিউবা। ব্রাজিলে যখন বামপন্থীরা শাসনক্ষমতায় ছিল তখন কিউবার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় ধরনের বিচরণ ছিল। কিন্তু দক্ষিণপন্থী শাসক বোলসোনারো তাদেরকে ‘গেরিলা চিকিৎসক’ আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেন। কিন্তু এখন সেখানে স্বাস্থ্যসেবায় বিপর্যয় দেখা দিলে তিনি তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেন এবং কিউবান মেডিকেল টিমের জন্য দেশটির শরণাপন্ন হয়েছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে হাইতির কলেরা বা পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মোকাবেলায় কিউবান চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনবদ্য ভূমিকার কথা সবাই জানে।

কিন্তু ইতালির মতো উন্নত দেশে এমন সহায়তা নিয়ে প্রথম গেলেন কিউবার চিকিৎসকরা।

 ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য ইতালি। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইতালিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশ এগিয়ে আসেনি তাদের সাহায্য করতে। পাশে দাঁড়ায়নি ‘বন্ধু’ আমেরিকাও। এ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল ইতালি।  ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশও সাহায্য করেনি’ বলে জানিয়েছিল ইতালি। এ পরিস্থিতিতে ইতালি সাহায্য চায় চীন, কিউবা ও ভেনিজুয়েলার কাছে। ইতালি রওনা হওয়া চিকিৎসক দলের সদস্য ৬৮ বছর বয়সী লিওনার্দো ফার্নান্দেজ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা সবাই ভয়ে ভয়ে আছি। কিন্তু এটা বৈপ্লবিক কর্তব্য, যা করতেই হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভয় সবাই পায়, সুপারহিরোরা ছাড়া। আমরা সুপারহিরো নই, বিপ্লবী চিকিৎসক।’ ফার্নান্দেজ এই নিয়ে আটবার আন্তর্জাতিক মিশনে যাচ্ছেন। ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগে তিনি লাইবেরিয়ায় গিয়েছিলেন। দলের আরেক সদস্য গ্রাসিলিয়ানো ডায়াজ বলেন, ‘এটা একটা সম্মানজনক কাজ, যা সংহতির নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’

কমিউনিস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় গড়ে উঠেছিল কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। বিশ্বে কমিউনিস্ট ব্লক ভেঙে পড়লে তার কিছু ক্ষতি হয়। আমেরিকাসহ পশ্চিমা দুনিয়ার অবরোধেও অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যেও কিউবা চিকিৎসক তৈরি করে গেছে; বিপ্লবী চিকিৎসক, যারা শুধু নিজের কথা ভাবেন না। শুধু নিজের দেশের কথাও ভাবেন না তারা। গোটা দুনিয়াটাকেই নিজের ঘর মনে করার কমিউনিস্ট মতাদর্শের তাগিদে ছুটে চলেন নানা প্রান্তে। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 

কিউবা এটা করছে অভ্যন্তরীণ বুনিয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই। দেশটিতে প্রতি হাজারের জন্য ৮ দশমিক ২ শতাংশ চিকিৎসক রয়েছেন। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মতো তথাকথিত উন্নত দেশে এ হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ। আর দক্ষিণ কোরিয়ায় এটা ২ দশমিক ৪ শতাংশ, চীনে ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ইতালিতে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। তারা যে নীতি এক্ষেত্রে গ্রহণ করেছে সেটা হলো, ‘অল হ্যান্ডস অন ডেক।’ ২০১৬ সালে হারিকেন ম্যাথিউ যখন ক্যারিবীয় ও তত্সংলগ্ন যুক্তরাষ্ট্রের অংশে আঘাত হানে তখন কিউবায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। অথচ কয়েক ডজন মার্কিন নাগরিক এবং শত শত হাইতির নাগরিক এ ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারায়। এটা সম্ভবপর হয়েছে কিউবার বিপ্লবী চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য। কিউবায় ২১টির মতো চিকিৎসাবিজ্ঞানের অনুষদ রয়েছে। যেগুলোয় প্রতি বছরই দুই হাজার শিক্ষার্থী চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নের নিমিত্তে বিনা পয়সায় ভর্তি হয়। এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় লাতিন অন্য দেশ, আফ্রিকান এবং আরব ও এশিয়ান অনেক ছাত্র অধ্যয়ন করেন। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য ৩ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি খরচ হয়, সেখানে দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক অবরোধে থাকা কিউবায় এ ব্যয় ২ লাখ মার্কিন ডলারের কম।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় এবং জানুয়ারিতে হুবেই প্রদেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরের ইতিহাসটা সবারই জানা। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন নভেল  করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যে ৩০টি ওষুধের নাম তালিকাবদ্ধ করেছে, তার মধ্যে কিউবার সংক্রমণ রোধকারী ওষুধ ইন্টারফেরন আলফা ২বি অন্যতম। এ ওষুধটির কার্যকারিতা নিয়ে সারা বিশ্বেই আলোচনা চলছে। ১৯৮১ সালে কিউবায় যখন ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুরু হয় তখন এ ওষুধ প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল। ওই সময় কিউবায় ৩ লাখ ৪০ হাজার এ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ১৮০ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১০১ জনই ছিল শিশু। এ মহামারী তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত ছিল বলে কিউবানদের সন্দেহ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তা বরাবর অস্বীকার করলেও সাম্প্রতিক কিউবান তদন্ত প্রমাণ করতে পেরেছে যে সত্যিই যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় এ মহামারী সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছিল।

ইন্টারফেরন আলফা ২বির গবেষণা প্রথম শুরু হয় ১৯৫৭ সালে লন্ডনে। জিন লিন্ডেমম্যান ও আলেক ইসাকস এ গবেষণা শুরু করেন। ১৯৬০ সালে প্যারিসে ইয়ন গ্রেসার নামে এক গবেষক টিউমারে আক্রান্ত ইঁদুরের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ঘটান। ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনকোলজিস্ট /////র্যা নডলফ ক্লার্ক লি এ গবেষণা নিজের হাতে তুলে নেন।  প্রেসিডেন্ট কার্টারের সময় কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হলে লি কিউবায় আসেন। সে সময় একজন কিউবান চিকিৎসক এবং একজন কিউবান হেমোটোলজিস্ট তার সঙ্গে গবেষণার বিষয়ে আলাপ করেন এবং পরে তার ল্যাবরেটরি প্রদর্শনের সুযোগ পান। এদিকে ১৯৮১ সালের মার্চে ছয়জন কিউবান গবেষক ফিনিস চিকিৎসক ক্যারি ক্যান্টেলের সঙ্গে ১২ দিন ফিনল্যান্ডে অতিবাহিত করেন। কান্টেল ১৯৭০ সালে মানবকোষ থেকে ইন্টারফেরনকে আলাদা করার গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। ১৯৮১-তে কিউবায় ডেঙ্গুর মহামারী শুরু হলে এ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।

সাম্প্রতিক নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিউবাও। ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছে সে দেশে। নিজের দেশেও করোনার বিরুদ্ধে লড়ছে কিউবা। তা সামাল দিয়েই চলছে অন্য দেশে রোগমুক্তির লড়াই। করোনার চিকিৎসার জন্য আরো ক্যারিবীয় দেশে বেলিজ, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, সেইন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাদিনস, ডমিনিকা এবং আর্জেন্টিনা যাচ্ছেন কিউবার চিকিৎসকরা। মূলত মার্ক্সবাদী দর্শনের প্রেরণায় ফিদেল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা আর রাউল কাস্ত্রোরা কিউবাকে যে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, সেই কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকতাবাদই তাদের মূলমন্ত্র। সে মন্ত্রে বলীয়ান হয়েই তারা স্বাস্থ্যসেবার মুনাফাবিহীন বিশ্বায়ন ঘটাচ্ছেন।